ঢাকা, শুক্রবার, ২৬ এপ্রিল ২০১৯, ১৩ বৈশাখ ১৪২৬ অাপডেট : ৩৯ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২৭ মার্চ ২০১৯, ১১:১৫

প্রিন্ট

সজনের বাম্পার ফলনে কৃষকের হাসি

সজনের বাম্পার ফলনে কৃষকের হাসি
ফাইল ফটো
রূপগঞ্জ প্রতিনিধি

সজিনা অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি গ্রীষ্মকালীন সবজি। গ্রাম বাংলার মানুষের কাছে 'সজনে' নামে অধিকহারে পরিচিত। এতে রয়েছে অধিকহারে পুষ্টি ও ঔষুধী গুণ।

একটা সময় ছিলো যখন রূপগঞ্জ উপজেলায় গ্রামের প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই সারি সারি সজিনা গাছ দেখা যেত। কিন্তু সেই দৃশ্য এখন আর নেই। এ কারণে বাজারে এই সবজির চাহিদা থাকা সত্ত্বেও সরবরাহ অনেক কমে গেছে। ফলে এর লোভনীয় স্বাদ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অনেকে।

সজিনার পুষ্টি ও ঔষুধী গুণের কথা ভেবেই প্রত্যেক বাড়িতে কমপক্ষে ১/২টি করে সজিনা গাছ থাকবে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ। ইতিমধ্যে সজিনার গাছ লাগানো কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

পর্যায় ক্রমে উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভায় আরো ১৫ হাজার গাছ লাগানোর পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের। নিজের পরিবারের চাহিদা পূরণ করে অতিরিক্ত সজিনা বিক্রি করে আর্থিকভাবেও স্বাবলম্বী হতে পারেন গ্রামবাসী।

বাড়ির আশপাশে, রাস্তার পাশে পরিত্যাক্ত জায়গায় এ গাছগুলো লাগানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। রূপগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সজিনা গাছ লাগানো শুরু হয়েছে।

অযত্ন অবহেলায় যত্রতত্রই বেড়ে ওঠে সজনে গাছ। বীজ ফেলতে হয় না, কোনো রকম পরিচর্চা করতে হয় না। শুধু মাত্র গাছের ডাল কেটে শুকনো উচুঁ যে কোনো স্থানে পুঁতে রাখলেই ফলন পাওয়া যায়। সজনেকে স্থানীয় ভাষায় সাজনা বলে। এ সাজনা বছরে একবারই ফলে। এদেরও মধ্যে আরেকটা জাত আছে যাকে স্থানীয়রা বাজনা বলে থাকে।

সাজনার অনেক ওষুধী গুণও আছে। তাই একে অনেকে ওষুধী গাছও বলে থাকেন। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় গ্রীষ্মকালীন সবজি সজনে ডাটার ব্যাম্পার ফলন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া এবং প্রাকৃতিক কোন দুর্যোগ না হওয়ায় এবার গত বছরের চেয়ে বেশি উৎপাদন হয়েছে।

তরকারি হিসেবে সজনের জুড়ি নাই, তাইতো এর কদর রয়েছে সর্বত্র। সমগ্র দেশে সজনের ব্যাপক চাহিদা থাকায় সজনে চাষিদের মুখে হাসি। সজনে সবজি বিক্রয় করে তারা আয়ও করেছে অনেক। উপজেলার আনাচে-কানাচে, গ্রামে-গঞ্জে সবখানে গাছে গাছে প্রচুর পরিমাণে সজনে ডাটা ধরেছে।

আমদানিও বেড়েছে বাজারে। স্থানীয় হাট-বাজারে সজনে ডাটার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। মুখরোচক ও পুষ্টিগুণে ভরপুর সজনে ডাটা স্থানীয়ভাবে বিক্রির পাশাপাশি রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় রপ্তানি হচ্ছে।

সপ্তাহখানেক ধরে প্রতিদিন উপজেলার যে কোন হাট বাজার থেকে শত শত মণ সজনে ডাটা আমদানি হচ্ছে। দাম গতবারের চেয়ে কিছুটা বেশি হলেও প্রতি মণ সজনে পাইকারিভাবে বিক্রি হচ্ছে ১২শ’ থেকে ১৩শ’ টাকায়।

উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের নগরপাড়া এলাকার টিটু তার ৩টি গাছ থেকে সজনে বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছে। এছাড়া খামারপাড়া গ্রামের মুদি ব্যাবসায়ী ফজুল হক ব্যাবসার পাশাপাশি বাড়ির চারে দিকে সজনে লাগিয়ে বিক্রি করে মন প্রতি প্রায় ১৫/১৮ হাজার টাকা আয় করেছে।

অন্যান্য সবজির চেয়ে সজনে ডাটা পুষ্টিগুণ ও স্বাদে বেশি হওয়ায় যে কোন বয়সের মানুষ সজনে খেতে ভালোবাসে।

রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের চিকিৎসাবিদদের মতে, সজনে সবজিতে ক্যালসিয়াম, খনিজ লবণ, আয়রণসহ প্রোটিন ও শর্করা জাতীয় খাদ্য রয়েছে। এছাড়া ভিটামিন এবিসি সমৃদ্ধ সজনে ডাটা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

শরীরের পুষ্টির জন্য গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়েদের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করে বলে সজনে ডাটা ওষুধি সবজি হিসেবেও ব্যাপক সমাদৃত। এছাড়া সজনে গাছের ছাল এবং পাতা রক্তামাশয়, পেটের পীড়া ও উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছে।

সজনে ডাটা প্রধানত দুই প্রজাতির। এর মধ্যে এক প্রজাতি বছরে তিন থেকে চার বার পাওয়া যায়। স্থানীয়ভাবে এর নাম বলা হয় বাজনা। অন্য প্রজাতির সজনে বছরের গ্রীষ্ম মৌসুমে একবারই পাওয়া যায়।

গাছের ডাল কেটে মাটিতে পুঁতে রাখলেই সজনে গাছ জন্মায়। এর জন্য কোন সার বা পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না। অবহেলা অযত্নে প্রাকৃতিকভাবেই বেড়ে উঠে সজনে গাছ। বড় ও মাঝারি ধরণের এক একটি সজনে গাছে ৬ থেকে ৮ মণ পর্যন্ত সজনে পাওয়া যায়।

পতিত জমি, রাস্তার ধার, বাড়ির আঙ্গিনা বা শহরে বাসা বাড়ির আনাচে-কানাচে সজনে ডাটার ডাল লাগিয়ে অনেকেই বাড়ির চাহিদা মিটিয়েও বাজারে বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। বিনা খরচে অধিক আয় পাওয়ায় অনেকেই বাণিজ্যিকভাবেও সজনে চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

বিশেষ করে এই উপজেলার মাটি, পানি ও আবহাওয়া সজনে চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় এই উপজেলায় সর্বত্রই প্রচুর পরিমাণে সজনে উৎপাদন হচ্ছে।

এ ব্যাপারে রূপগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তাজুল ইসলাম বলেন, রূপগঞ্জ উপজেলা সর্বত্র সজনে চাষে উপযোগী মাটি ও আবহাওয়া রয়েছে।

এখানে বাণিজ্যিকভাবে সজনে চাষ করে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। ফলে এই উপজেলায় অনেকে আম, জাম, কাঁঠাল, লিচুর বাগানের মত এখন সজনে ডাটার বাগান করতে শুরু করেছেন। এতে অর্থনৈতিক কর্মকান্ড সৃষ্টির মাধ্যমে বেকার কৃষাণীদের কর্মক্ষেত্র তৈরি হবে।

রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ ব্যাপারে বলেন, সজনে একটি সুস্বাধু খাবার। বিশেষ করে এই গ্রীষ্মকালে সজনে ডালের তুলনাই হয় না। সজনে পাতাও বিশেষ উপকারী। শীতের সকালে গরম ভাতের সাথে সজনে পাতার শাক কিংবা ভর্তার মজাই আলাদা।

বাংলাদেশ জার্নাল/টিপিবি

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত
close
close