"কার্যক্রম বন্ধ নয়; স্থায়ীকরণই মূল ইস্যু" ১৬ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে ইউজিসির বার্তা স্পষ্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ মে ২০২৫, ১৬:৪০ আপডেট : ০৭ মে ২০২৫, ১৭:৪৬

‘১৬ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে ইউজিসি’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন খবর ছড়িয়ে পড়তেই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তৈরি হয় ব্যাপক উদ্বেগ।
তবে ইউজিসি (বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন) পরিষ্কার ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত এখনো নেয়া হয়নি। বিষয়টি এখনো আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে, এবং মূল লক্ষ্য হলো সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্থায়ী ক্যাম্পাসে স্থানান্তর নিশ্চিত করা।
গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে ইউজিসি সচিব ড. মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, “আমরা আইন না মানা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিয়ে কাজ করছি। কিছু সতর্কতামূলক সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। কিন্তু ভর্তি বা শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধের কোনো সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া হয়নি।”
একইভাবে ইউজিসির বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার পরিচালক ড. মো. সুলতান মাহমুদ ভুইয়া জানান, “১৬টি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আর ইউজিসির এককভাবে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করার এখতিয়ারও নেই। আমাদের লক্ষ্য বরং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সচল রাখা।”
৮ এপ্রিল শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইউজিসিকে যে চিঠি দিয়েছে, তা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০-এর ১২(১) ধারা অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ।
এই ধারা অনুযায়ী, কোনো বিশ্ববিদ্যালয় যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সনদপত্র না নেয় বা স্থায়ী ক্যাম্পাসে না যায়, তবে তাদের কার্যক্রম বন্ধের বিধান রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এর প্রয়োগ বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়াধীন।
পূর্বতথ্য অনুযায়ী, ইউজিসি ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে ১৮টি বিশ্ববিদ্যালয়কে স্থায়ী ক্যাম্পাসে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছিল। এরপর কিছু বিশ্ববিদ্যালয় সময়সীমা মেনে ক্যাম্পাস স্থানান্তর করলেও, যারা পারেনি তাদের বিষয়ে নতুন করে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ চলছে। তবে এটি কোনো চূড়ান্ত বন্ধের নির্দেশ নয়।
ভর্তি নিয়ে গুজবে তীব্র প্রতিক্রিয়া এসেছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দিক থেকেও। সঠিক তথ্যের অভাবে শিক্ষার্থী এবং অভিভাবক দের মাঝে নানা বিভ্রান্তি দেখা দিচ্ছে।
তালিকাভুক্ত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী গণমাধ্যম কে জানান, "কিছুদিন আগেই কেবল ভর্তি হলাম, এখন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলে পড়ালেখা বন্ধ করে দেয়া ছাড়া আর কোন উপায় থাকবেনা, এমনিতেই খরচ তাঁর উপর এতো ঝামেলা নেয়া সম্ভব না"
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর এমন অবস্থা নিয়ে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সাথে কথা বললে তিনি প্রতিউত্তরে জানান "আমরা এখনো কোনো সরকারি নোটিশ পাইনি। আমাদের সকল কার্যক্রম নিয়মিতভাবে চলছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল সোর্স থেকে তথ্য নেওয়ার অনুরোধ করছি।”
সতর্ক প্রতিক্রিয়ায় সরব বিশ্ববিদ্যালয়গুলো
ইউজিসির এমন খবর প্রকাশের পরপরই নড়েচড়ে বসেছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পরিস্থিতি সামাল দিতে একের পর এক বিবৃতি দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।
মঙ্গলবার (৬ মে) বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্সেস (বিইউএইচএস) এক অফিসিয়াল বিবৃতিতে জানায়, “ইউজিসি থেকে আমাদের বোর্ড অব ট্রাস্টিজকে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিভ্রান্তিকর খবরে উদ্বিগ্ন না হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।”
এদিকে খুলনার নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি, ফেনী ইউনিভার্সিটি সহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান একই সুরে প্রকাশিত খবরে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। তাদের বক্তব্য, ভর্তি কিংবা শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়নি, সবকিছু স্বাভাবিকভাবে চলছে।
ইউজিসির নোটিশ নিয়ে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় বিবৃতি দিলেও অন্যন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পক্ষ হতে কোন বিবৃতি পাওয়া যায়নি।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০ অনুযায়ী, কোনো বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী ক্যাম্পাসে না গেলে তার কার্যক্রম বন্ধের সুযোগ রাখে আইনটি। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে প্রথমে ৭ বছর, পরে আরও ৫ বছরের সময় দিয়ে থাকে ইউজিসি। এর পরও যারা স্থানান্তর সম্পন্ন করতে ব্যর্থ, তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা রাখে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসি।
সেই আইনি কাঠামোর আলোকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইউজিসিকে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দেয়। মূলত ওই প্রক্রিয়াকে ঘিরেই ‘বন্ধের নির্দেশ’ এমন রঙচঙে ভাষায় বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়েছে কিছু মাধ্যমে।
ইউজিসি কর্তৃক ১৬ বিশ্ববিদ্যালয়ে নোটিশ পাঠানো হয়। তার মধ্যে -
ঢাকায় অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো: দ্য পিপলস ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (মোহাম্মদপুর), ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ – (সাতমসজিদ রোড), স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (সিদ্ধেশ্বরী), দ্য মিলেনিয়াম ইউনিভার্সিটি (রাজারবাগ), প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি (গুলশান), প্রাইমএশিয়া ইউনিভার্সিটি (বনানী), আশা ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (শ্যামলী), সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটি (পান্থপথ), বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্সেস – (মিরপুর)

ঢাকার বাইরের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো: নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (সিলেট), ঈশা খাঁ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (কিশোরগঞ্জ), নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি (খুলনা), ফেনী ইউনিভার্সিটি (ফেনী), ব্রিটানিয়া ইউনিভার্সিটি (কুমিল্লা), পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (চট্টগ্রাম), চিটাগং ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি (চট্টগ্রাম)।

তবে ইউজিসি ইতোমধ্যে স্পষ্ট করেছে, এখনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। বিষয়টি এখনও নীতিগত আলোচনা ও সতর্কতামূলক পর্যায়ে রয়েছে।
বাংলাদেশ জার্নাল/এজেএইচ










