ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬ আপডেট : ১ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৬:৩৩

প্রিন্ট

‌‍‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‘আমানতের খেয়ানত করেছেন শোভন-রাব্বানী’

‌‍‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‘আমানতের খেয়ানত করেছেন শোভন-রাব্বানী’
নাজমুল হোসেন

বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তাদের পরিবর্তে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে সংগঠনের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য।

শীর্ষ দুই নেতার অব্যাহতির পর থেকেই তাদের বিরুদ্ধে অনেক নেতাকর্মীই অভিযোগ তুলছেন। একে একে বেরিয়ে আসছে তাদের নানারকম বিতর্কিত কর্মকাণ্ড, যা এতদিন লোকচক্ষুর অন্তরালেই ছিলো। এবার তাদের দুজনের বিষয়ে মুখ খুলেছেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক উপ পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক ও বর্তমান কমিটির পদবঞ্চিত নেতা ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী সজীব।

তিনি বলেন, ‘আমরা মনে-প্রাণে বিশ্বাস করি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ একটি পরিবার আর এই পরিবারের অভিবাবক হচ্ছেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। সেই পরিবারের সদ্য সাবেক দুজনকে (শোভন-রাব্বানী) জননেত্রী শেখ হাসিনা আমানত হিসেবে ছাত্রলীগের গুরুদায়িত্ব অর্পন করেছিলেন। আমি মনে করি, তারা সে দায়িত্ব যথাযথ পালন না করে তারা আমানতের খেয়ানত করেছেন। এছাড়া দেশরত্ন, আমাদের মমতাময়ী মা শেখ হাসিনা ছাত্রলীগের বিষয়ে এই যে যুগপযোগি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এতে করে উক্ত সংগঠনটির তৃণমূলের নেতাকর্মীদের আশা আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটেছে।’

ইফতেখার আহমেদ অভিমানের সুরে বলেন, একটা বিষয় জেনে এসেছি ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যখন যিনি ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দেন সংগঠনের স্বার্থে তার সাথে কাজ করে যেতে হয়। আমি বুকে হাত দিয়ে বলতে পারব, তাদের দায়িত্বকালীন সময়ে সেক্ষেত্রে আমার বিন্দুমাত্র খামখেয়ালি কিংবা ত্রুটি ছিল না। রাজনৈতিক প্রোগ্রাম, মিছিল-মিটিং, ডাকসু নির্বাচনসহ সর্বক্ষেত্রে সক্রিয় থাকার চেষ্টা করেছি। এমনকি তারা (শোভন-রাব্বানী) নির্বাচিত হওয়ার আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন জন নানা কটুক্তির চেষ্টা করলেও সেসব থেকে পুরোপুরি বিরত ছিলাম। তাও তাদের কমিটিতে আমাকে স্বীকৃতি দেয়া হয়নি। দুঃখ নেই। তবে আমাদের ওপর হামলার বিচারসহ বিভিন্ন দাবিতে যখন রাজু ভাস্কর্যে দিনের পর দিন, রাত অতিবাহিত করেছি তাদের ‘ড্যাম কেয়ার এ্যাটিটিউট’ এ খুব কষ্ট পেয়েছি।

আমার স্পষ্ট মনে আছে, তখন প্রায় মধ্যরাত্রি। অসহ্য গরম আর মশার উপদ্রব। শোভন ভাই টিএসসি দিয়ে যাওয়ার পথে গাড়ি থামিয়ে আমাদের এখানে আসলেন। বললেন, তোরা ফ্যান লাগিয়ে নে। আন্দোলন করতে সুবিধা হবে। বললাম, ভাই আপনি আমাদের এ অবস্থা দেখে আন্দোলন চালিয়ে যেতে বলেন, তাও আমাদেরকে সুষ্ঠু সমাধানের আশ্বাস দিতে ইচ্ছে হয় না? তিনি তাচ্ছিল্যের হাসি হাসলেন। তখন সত্যিই খুব খারাপ লেগেছে। কারো দুঃসময়ে এভাবে কেউ উপহাস করতে পারে আমার জানা ছিল না- যোগ করেন সজীব।

অভিযোগের সুরে সজীব বলেন, তারা তো সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্ব, ক্যাম্পাসের বড় ভাই সর্বোপরি একজন মানুষ। আমরা তো ওখানে চতুষ্পদ জন্তু ছিলাম না। একই অক্সিজেনে ক্যাম্পাস জীবন কাটানো আপনারই ছোট ভাইয়েরা ছিলাম। ভয়ংকর সে ৩৮ দিনে তপ্ত রাজুর পিচঢালা বুকে আমাদের নিদ্রাহীন চোখ, চোখের কোণ বেয়ে পড়া অশ্রু, ঘাম আর নীরব আর্তনাদের এমন অসংখ্য স্মৃতি, কষ্ট জমা আছে। তাদের দুজনের ক্ষেত্রে যা ঘটেছে সেক্ষেত্রে আমরা বুনো উল্লাসে মাতবো না। তারা তাদের কর্মের ফল পেয়েছেন। নেত্রী দায়িত্ব দিয়েছিলেন। সংগঠনের স্বার্থে তিনিই আবার পরিবর্তন এনেছেন। তার সিদ্ধান্ত শিরোধার্য।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএইচ/ডিপি/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত