ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ মে ২০২১, ৩০ বৈশাখ ১৪২৮ আপডেট : ৩০ মিনিট আগে

প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৯:২৪

প্রিন্ট

পরীক্ষা নেয়ার দাবিতে চবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন

পরীক্ষা নেয়ার দাবিতে চবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন
ছবি- প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে পরীক্ষা নেয়ার দাবিতে আন্দোলন করেছে শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বর থেকে এ আন্দোলন শুরু হয়। পরে বঙ্গবন্ধু চত্বরে এসে অবস্থান নেয় আন্দোলনকারীরা। এ সময় শাটল ট্রেন চালু না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য বাসের ব্যবস্থা করার দাবিও জানায় তারা।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করার পর আবার স্থগিত করে দিয়েছে। পরীক্ষাকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে চলে এসেছে। হল খোলা না থাকায় চট্টগ্রাম শহরসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে কটেজগুলোতে থেকে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। হঠাৎ করে পরীক্ষা স্থগিত করায় শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ বেড়েছে।

তারা আরও বলেন, ক্লাস-পরীক্ষা না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা অ্যাকাডেমিক্যালি যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি শিক্ষাজীবন শেষ করে চাকরি জীবনেও তার প্রভাব পড়বে।

এর আগে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এস এম মনিরুল হাসান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীন আখতারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ডিন’স কমিটি ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যৌথ জরুরি সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুসারে চবির পূর্ব নির্ধারিত সকল পরীক্ষা পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হয়।

আন্দোলনের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. রবিউল হাসান ভূঁইয়া বলেন, পরীক্ষা নেয়ার ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নেয়। সে অনুযায়ী বেশ কয়েকটি বিভাগের পরীক্ষাও অনুষ্ঠিত হয়েছে। যেহেতু বর্তমানে সরকারি একটি সিদ্ধান্ত এসেছে, তাই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়ন করছে। শিক্ষার্থীরা যদি কিছুদিন ধৈর্য্য ধরে তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পর আমরা সব পরীক্ষা নিয়ে নিতে পারবো।

এদিকে শিক্ষার্থীদের পর অসমাপ্ত পরীক্ষা নিতে দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী পরামর্শ ও নির্দেশনার পরিচালক অধ্যাপক সিরাজ উদ দৌল্লাহ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতারের সুপারিশক্রমে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বরাবর আবেদন জানান।

আবেদনপত্রে উল্লেখ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবারের সন্তান। করোনা মহামারির কারণে অধিকাংশ অভিভাবক আর্থিক সঙ্কটের সম্মুখীন। করোনার প্রভাব শিক্ষার্থীর ওপর সুস্পষ্ট। অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের অনুমোদনক্রমে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্থগিত পরীক্ষা শুরু হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পরীক্ষাও শেষ পর্যায়ে। কিছু পরীক্ষা অসমাপ্ত রয়েছে। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি শিক্ষামন্ত্রীর ঘোষণা অনুসারে চলমান পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।

উল্লেখ্য, শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় এবং চট্টগ্রাম শহরে বিভিন্ন এলাকায় নিজ খরচে ও ধার-দেনা করে ঘর ভাড়া নিয়েছেন। পরীক্ষা স্থগিত করায় ছাত্র-ছাত্রীরা আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন এবং মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে অধ্যাপক সিরাজ উদ দৌল্লাহ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে কাজ করছি। তাদের সুখে-দুঃখে কাছে না থাকলে একজন অভিভাবক হিসেবে নিরর্থক মনে করছি। আশা করছি অসমাপ্ত পরীক্ষা আবারও শুরু করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত