ঢাকা, শুক্রবার, ২৩ এপ্রিল ২০২১, ১০ বৈশাখ ১৪২৮ আপডেট : ১ মিনিট আগে

প্রকাশ : ০২ মার্চ ২০২১, ১৮:৩৮

প্রিন্ট

ফের ইবির হলে ‘চুরি’

ফের ইবির হলে ‘চুরি’
ছবি: সংগৃহীত

ইবি প্রতিনিধি

একের পর এক চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ক্যাম্পাসে। মঙ্গলবার মধ্যরাতে সাদ্দাম হোসেন হলে একটি কক্ষের তালা ভেঙে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে।

এর আগেও, শেখ রাসেল হলের সাবমারসিবল পাম্প, জিয়া হলের চার কক্ষের আসবাবপত্র, রবীন্দ্র-নজরুল কলা ভবনের দুই ভ্যান টাইলস, ক্যাবল চুরি হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ক্যাম্পাসে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্তাব্যক্তি ও কর্মকর্তাদের দায়িত্বের অবহেলায় এ ধরণের ঘটনা ঘটছে বলে জানা গেছে। ঘটনাগুলোর সাথে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ব্যর্থ হচ্ছে। ফলে দিনের পর দিন চুরির ঘটনা বেড়েই চলছে।

ওই কক্ষের শিক্ষার্থী নাহিদ নুর বলেন, সোমবার মধ্যরাতে সাদ্দাম হোসেন হলের ২১৭ নং কক্ষের তালা ভেঙে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র চুরি হয়েছে। এরপর মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় দিকে ওই শিক্ষার্থী হল রুম থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আনতে গিয়ে হলের তালা ভাঙ্গা অবস্থায় দেখতে পায়।

এ সময় রুম থেকে দুইটি রাইস কুকার, কিছু বই ও জামা-কাপড় চুরি হয়েছে বলে জানায় সে। এ ছাড়াও তার পাশের কক্ষের তালা ভাঙার চেষ্টা করা হয়েছে। এ ঘটনায় ওই শিক্ষার্থী সাদ্দাম হোসেন হলের প্রভোস্ট, প্রক্টর, ছাত্র উপদেষ্টা ও বিভাগীয় সভাপতি বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হলের উত্তর ব্লকের ২য়, ৩য় ও ৪র্থ তলার গোসলখানার শাওয়ারের রডসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও চুরি হয়েছে।

এর আগে গত ৪ ফেব্রুয়ারি রাতে রবীন্দ্র-নজরুল কলা ভবনের নির্মাণ সামগ্রী চুরি করতে এসে হাতে নাতে ধরা পড়ে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে সে তার সহযোগীদের তথ্যও দেয়।

স্বীকারোক্তিতে ওই কিশোর জানায়, শেখ রাসেল হলের দেড় লাখ টাকার সাবমারসিবল পাম্প, রবীন্দ্র নজরুল কলা ভবনের পাশ থেকে দুই ভ্যান টাইলস, ক্যাবলসহ নির্মাণাধীন ভবনের ছোটখাটো চুরির সাথে জড়িত সে।

এ ছাড়াও চুরির ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের কর্মচারী তোজামের ভাগ্নে সাব্বির হোসেন, শৈলকূপার সাতগাছীর সাগর আলী, পদমদী গ্রামের জব্বার আলীর ছেলে তরিকুল এবং একই গ্রামের ক্যাম্পাসের ঝালমুড়ি বিক্রেতা জামালসহ রুঞ্জু মিয়া, আকাশ ও সুমনের নাম প্রকাশ করে। দিনের বেলায় ঘাস কাটা ও কাগজ কুড়ানোর নামে অনুসন্ধান করে রাতের বেলায় চুরির এ মালামাল বিশ্ববিদ্যালয়ের থানা গেট, লালন শাহ ও বঙ্গবন্ধু হলের পকেট গেট দিয়ে বের করতো বলে জানায় ওই যুবক।

অভিযুক্ত যুবকের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির পরেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিয়েই ওই কিশোরকে ছেড়ে দেয়া হয় বলে অভিযোগ করেছে শিক্ষার্থীরা।

এ ছাড়াও ওই চুরির ঘটনায় জড়িতের বিরুদ্ধে কোনোরকম ব্যবস্থা নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ ছাড়াও গত ১ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গবন্ধু হলের পকেট গেটে এক ছাত্রীর মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে যায় বহিরাগত এক যুবক। এ ঘটনায়ও জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আমাদের হলে ঢুকতে স্টুডেন্ট আইটি কার্ডের ফটোকপি, মালামালের বিবরণসহ ফরম পূরণ করতে হয়। আমাদের বেলায় যদি এত নিরাপত্তা হয়, চোরের বেলায় তাহলে এত উদাসীনতা কেন? প্রশাসনের উদাসীনতার কারণে একের পর এক চুরির ঘটনা ঘটছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া না হলে চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটতেই থাকবে।

এ বিষয়ে সাদ্দাম হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. আতিকুর রহমান বলেন, আমাকে বিষয়টা বেলা সাড়ে ১১টার সময় জানানো হয়েছে। নিরাপত্তার লোকজনের অবহেলা নাকি অফিসের লোকজনের অবহেলা সেটা দেখবো এবং হলের সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে বিষয়টি আরো ভালোভাবে খোঁজ নেব। এ বিষয়ে আমি প্রক্টরকে ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, সাদ্দাম হলের বিষয়ে আমার কাছে এখনো কেউ অভিযোগ করেনি। তবে আগের ঘটনাগুলোতে চোরেরা কেন ছাড় পেয়ে যাচ্ছে এবং কিভাবে তাদের ব্যবস্থা নেয়া যায় সে বিষয়ে গতকালও আমি শৈলকূপা থানার ওসির সাথে কথা বলেছি।

বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য জানতে ইবি ভিসি প্রফেসর ড. শেখ আবদুস সালামের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

বাংলাদেশ জার্নাল/এমএস/এনকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত