ইরানি অভিবাসনপ্রত্যাশীদের যুক্তরাষ্ট্রে রাখবেন না ট্রাম্প, পাঠাবেন আফ্রিকায়
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ১২ জুন ২০২৬, ২১:৩৭

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ইরানিসহ অন্যান্য অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মধ্য আফ্রিকার দেশ মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে, যে দেশটি দীর্ঘদিন ধরে অস্থিতিশীলতা, সহিংসতা ও দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করছে।
বিষয়টি সম্পর্কে জানেন এমন দুই আইনজীবী ও এক মার্কিন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ খবর জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে পাঠানোর তালিকায় থাকা ইরানি নাগরিকদের মধ্যে দুই নারী আছেন, যারা ইরানে ফেরত গেলে নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হতে পারেন বলে জানিয়েছেন তাদের আইনজীবী এমিলি ট্রস্টল।
এই দুই নারীর একজন খ্রিস্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়েছেন এবং অন্যজন গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলন কর্মী বলে জানান তিনি।
মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের (সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক) সরকার ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রদপ্তর এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনও মন্তব্য করেনি।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মধ্য আফ্রিকার এই দেশটির একটি চুক্তি হয়েছে। এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে তথাকথিত তৃতীয় দেশে বিতাড়িত ব্যক্তিদের গ্রহণ করার কথা রয়েছে মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের।
আইনজীবী ট্রস্টল জানান, দুই ইরানি নারী ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর আটক হন। তারা যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের আবেদন করেছিলেন।
পরে মার্কিন অভিবাসন বিষয়ক বিচারকের কাছ থেকে তারা ‘উইথহোল্ডিং অব রিমুভাল’ নামক আইনি সুরক্ষা পান। এই সুরক্ষার আওতায় কোনও অভিবাসনপ্রত্যাশীকে জোর করে দেশে ফেরত পাঠানো হলে যদি সেখানে তার নিপীড়নের শিকার হওয়ার আশঙ্কা ৫০ শতাংশের বেশি হয়, তাহলে তাকে সেখানে পাঠানো থেকে বিরত থাকা হয়।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে চুক্তির আওতায় প্রথম যে ফ্লাইটটি সেদেশে যাবে, তাতে প্রায় ২০ জন অভিবাসী থাকতে পারেন। তাদের মধ্যে ইরানের নাগরিক ছাড়াও সিরিয়া ও আফগানিস্তানের নাগরিক থাকবে।
দুই আইনজীবী জানিয়েছেন, ফ্লাইটটি আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যেই ছেড়ে যেতে পারে। এক তুর্কি নাগরিকও এই ফ্লাইটে থাকতে পারেন বলে তার আইনজীবী জানিয়েছেন।
তুরস্কের ওই নাগরিকও রাজনৈতিক নিপীড়নের কারণে দেশ ছেড়েছিলেন এবং তিনিও যুক্তরাষ্ট্রে ‘উইথহোল্ডিং অব রিমুভাল’ আইনি সুরক্ষা পেয়েছিলেন। পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে তার আইনজীবী একথা জানিয়েছেন।
ট্রাম্প প্রশাসন এমন অভিবাসনপ্রত্যাশীদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে দিতে তৃতীয় দেশের সঙ্গে চুক্তি করেছে, যাদেরকে আইনগত কারণে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব নয়।
এর আগে মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের প্রতিবেশী দেশ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর সঙ্গেও যুক্তরাষ্ট্র একই ধরনের চুক্তি করেছে।
বর্তমানে দেশটিতে ইবোলার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র এসব দেশের সঙ্গে চুক্তিকে বৈধ বলে দাবি করছে। তবে মানবাধিকার সংগঠন ও অধিকারকর্মীরা বলছে, এসব চুক্তির বিস্তারিত তথ্যে স্বচ্ছতা নেই এবং অনেক ক্ষেত্রে বেশিরভাগ অভিবাসনপ্রত্যাশীকে নিজ দেশেই ফেরত পাঠানো হয়।
মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, যাদেরকে মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে পাঠানো হবে, তাদেরকে রাজধানী বাঙ্গুইয়ের কিছু অ্যাপার্টমেন্টে রাখা হবে। তাদেরকে তাৎক্ষণিকভাবে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে না।
তিনি জানান, চুক্তির আওতায় শেষ পর্যন্ত শত শত অভিবাসীকে মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে পাঠানো হতে পারে। ইরানি নাগরিকদের দেশটিতে পাঠানোর যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনার খবর এর আগে বৃহস্পতিবার প্রকাশ করেছিল দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস পত্রিকা।
মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ গত সপ্তাহে জানিয়েছিল, সব নির্বাসিত ব্যক্তিই পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়ার সুযোগ পাবেন।










