ঢাকা, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ আপডেট : ৯ মিনিট আগে
শিরোনাম

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের মুহুর্মুহু হামলা

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৮

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের মুহুর্মুহু হামলা
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে বড় ধরনের সমন্বিত ক্ষেপণাস্ত্র ও আত্মঘাতী ড্রোন হামলা শুরু করেছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি।

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অনবরত বিমান হামলার সরাসরি প্রতিশোধ নিতে এবং গত আটচল্লিশ ঘণ্টায় চিহ্নিত করা শত্রুদের গতিবিধির ওপর ভিত্তি করে এই বিশাল অভিযান চালানো হয়েছে।

ইরানি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে এই ধারাবাহিক প্রতিশোধমূলক অভিযানের প্রথম ধাপে জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। আইআরজিসির ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের আঘাতে ওই ঘাঁটির বেশ কয়েকটি জ্বালানি ডিপো এবং গোলাবারুদ সংরক্ষণের গুদামে ভয়াবহ আগুন ধরে গেছে। হরমুজ প্রণালীতে ট্র্যাকিং সিস্টেম বন্ধ করে বেআইনিভাবে চলা দুটি জাহাজকে ইরানি নৌবাহিনী আটক করার পর আমেরিকা যে বিমান হামলা চালিয়েছিল, এটি তারই প্রথম দিককার প্রতিক্রিয়া।

অভিযানের দ্বিতীয় ধাপে আইআরজিসি-এর অ্যারোস্পেস বা আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী বাহরাইনের শেখ ঈসা বিমানঘাঁটির ভেতরে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় জোরালো হামলা চালিয়েছে। ইরানি বাহিনীর নিখুঁত আঘাতে সেখানে থাকা মার্কিন সামরিক বাহিনীর হেলিকপ্টার রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র, একটি পি-৮ যুদ্ধবিমান রাখার হ্যাঙ্গার এবং আমেরিকার ড্রোন নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা কেন্দ্রটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মার্কিন আগ্রাসন অব্যাহত থাকায় এই ধরনের আক্রমণ চালানো হয়েছে বলে তেহরান স্পষ্ট করেছে।

আইআরজিসি তাদের অভিযানের তৃতীয় ধাপে কুয়েতের সামরিক ঘাঁটিগুলোর ওপর চড়াও হয়ে সেগুলোকে ধ্বংস করার দাবি করেছে। ইরানি বাহিনীর বিশেষায়িত আকাশ শাখা কুয়েতের আলী আল-সালেম বিমানঘাঁটিতে থাকা আমেরিকার প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও জ্বালানি ট্যাংকগুলো সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে। এর পাশাপাশি কুয়েতের আহমেদ আল-জাবের বিমানঘাঁটিতে থাকা আমেরিকার কৌশলগত এফপিএস রাডার সিস্টেমটিও এই নিখুঁত হামলায় পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

ইরানি সামরিক নীতিনির্ধারকেরা এই পুরো অভিযানটিকে আমেরিকার অন্যায় পদক্ষেপের বিরুদ্ধে একটি ‘চোখের বদলে চোখ’ নীতি ও প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। হরমুজ প্রণালীতে আমেরিকার যেকোনো ধরনের সামরিক তৎপরতা ও যুদ্ধংদেহী ভূমিকার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে আইআরজিসি জানিয়েছে যে এই আন্তর্জাতিক জলপথে বহিরাগত কোনো শক্তির সামরিক হস্তক্ষেপ বা দাদাগিরি ইরান কোনো অবস্থাতেই বরদাশত করবে না এবং তাদের এই সামরিক অভিযানটি এখনো অব্যাহত রয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা

বাংলাদেশ জার্নাল/জে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত