নেপালের সাবেক ২ মন্ত্রী ও আরও ১৪ জনের কারাদণ্ড
জার্নাল ডেস্ক
প্রকাশ : ১৫ জুলাই ২০২৬, ১৩:২৯

নেপালি নাগরিকদের ভূটানি শরণার্থী দেখিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পুনর্বাসনের জন্য জাল নথি তৈরি ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় নেপালের সাবেক দুই মন্ত্রীকে কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির এক আদালত।
বুধবার (১৫ জুলাই) আদালতের নথিপত্র ও একজন আইনজীবির বরাতে এ খবর জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
মঙ্গলবার রাতে ঘোষণা করা রায়ে কাঠমাণ্ডুর জেলা আদালত রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ, প্রতারণা ও সংগঠিত অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে দেশটির সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রী টপ বাহাদুর রায়ামাজিকে চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন।
আর উপপ্রধানমন্ত্রীর এসব অপরাধের সহযোগী হিসেবে কাজ করায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাল কৃষ্ণ খণ্ডকে দিয়েছে দুই বছরের কারাদণ্ড।
রায়ামাজি কারাগারে আছেন আর কৃষ্ণ জামিনে বাইরে আছেন। রায়ের প্রতিক্রিয়া জানতে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি রয়টার্স। এর আগে তারা এই কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছিল।
রায়ামাজির আইনজীবী ধর্ম রাজ রেগমি জানিয়েছেন, রায়ামাজি ‘কখনোই শরণার্থী বিষয়ক নীতি নির্ধারণের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না’ আর তিনি রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন।
কৃষ্ণের আইনজীবী পঙ্কজ কর্ণও জানিয়েছেন, তার মক্কেলের রায়ের বিরুদ্ধে তিনিও আপিল করবেন।
আদালতের নথি থেকে দেখা গেছে, এ মামলায় আরও ১৪ জন চার বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড পেয়েছে। তাদের মধ্যে নেপালের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক একজন শীর্ষ আমলা ও ভুটানি শরণার্থীদের এক সাবেক নেতাও আছেন।
ভুয়া ভুটানি শরণার্থী হিসেবে নেপালি কোনো নাগরিককে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে পরিষ্কার হয়নি। এই কেলেঙ্কারি উদ্ঘাটিত হয় ২০২৩ সালে, ততোদিনে ওই দুই মন্ত্রী সাবেক হয়ে গেছেন।
১৯৯০ এর দশকের প্রথমদিক থেকে শুরু করে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার নেপালি বংশোদ্ভূত ভুটানি নাগরিক দেশ থেকে পালিয়ে নেপালে চলে যান। তারা আট লাখেরও কম জনসংখ্যার দেশ ভুটানে আরও রাজনৈতিক স্বাধীনতার দাবি করছিলেন।
দুই প্রতিবেশী প্রত্যাবাসন নিয়ে একমত হতে ব্যর্থ হওয়ার পর তাদের মধ্যে প্রায় এক লাখ ১৩ হাজার জনকে তৃতীয় দেশে পুনর্বাসন কর্মসূচীর অধীনে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়াসহ বেশ কয়েকটি পশ্চিমা দেশে পুনর্বাসিত করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্র নেপাল থেকে এক লাখ শরণার্থীকে গ্রহণ করে। আর কয়েক হাজার শরণার্থী এখনও নেপালের পূর্বাঞ্চলে শিবিরগুলোতে বসবাস করছে। তারা ভুটানে ফিরতে চায়।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে তরুণদের দুর্নীতিবিরোধী প্রতিবাদ চলাকালে ৭৬ জনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে তৎকালীন নেপাল সরকারের পতন হয়। মার্চের সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে জেন জি প্রজন্মের সমর্থনে র্যাপার থেকে রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠা বালেন্দ্র শাহর নেতৃত্বাধীন একটি নতুন সরকার গঠিত হয়। শাহ আগের প্রশাসনগুলোর বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
বাংলাদেশ জার্নাল/সিএম










