ঢাকা, শনিবার, ০২ জুলাই ২০২২, ১৮ আষাঢ় ১৪২৯ আপডেট : ৬ মিনিট আগে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ভেঙে তিন টুকরো সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট

  ঢাবি প্রতিনিধি

প্রকাশ : ১৬ জানুয়ারি ২০২১, ১৬:৪৩

ভেঙে তিন টুকরো সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট
ছবি: প্রতিনিধি
ঢাবি প্রতিনিধি

আদর্শিক ও সাংগঠনিক বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্যের কারণে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ভেঙে এখন তিন টুকরো। আদর্শ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন থেকে বিচ্ছিন্নতার অভিযোগে 'গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল' নামে তৃতীয় এ ধারাটি আত্মপ্রকাশ করে।

শনিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সংগঠনটি আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে। নতুন এ সংগঠনটির সভাপতি আরিফ মঈনুদ্দিন সাধারণ সম্পাদক উজ্জল বিশ্বাস। নতুন মানে সংগঠনটির ঘোষণা দেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট (মার্ক্সবাদী) একাংশের আহবায়ক তাজ নাহার রিপন।

মূল দল বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) ও এখন তিন টুকরো। মূল দলের ভাঙনের জন্যই এটির ছাত্র সংগঠনের মধ্যেও ভাঙন দেখা যায়। মূল দলের নেতৃত্বে রয়েছেন খালেকুজ্জামান। আর দ্বিতীয় ভাগের (বাসদ মার্কসবাদী) অংশের নেতৃত্বে মুবিনুল হায়দার চৌধুরী এবং বাসদ (মার্কসবাদী পাঠচক্র ফোরাম) এর নেতৃত্বে রয়েছেন শুভ্রাংশু চক্রবর্তী।

সামরিক স্বৈরাচারবিরোধী ঐক্যবদ্ধ ছাত্র-আন্দোলনের পটভূমিতে ১৯৮৪ সালের ২১ জানুয়ারি আত্মপ্রকাশ করেছিলো সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট জোটবদ্ধভাবে এবং এককভাবে শিক্ষা ও গণতন্ত্রের সংগ্রামে সাহসী ভূমিকা পালন করেছে। কিন্তু, সংগঠনের অভ্যন্তরে আদর্শিক ও সাংগঠনিক (নেতৃত্ব নিয়ে) বিভিন্ন বিষয়ে গুরুতর মতপার্থক্যের কারণে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট এখন তিনটি ধারায় বিভক্ত। ভেঙে যাওয়া অংশগুলো হলো সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট (মাসর্কবাদী) এবং নতুন আত্মপ্রকাশ পাওয়া অংশ গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল।

সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট (মার্ক্সবাদী) একাংশের আহবায়ক তাজ নাহার রিপন। তিনি বলেন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট নামে এখন তিনটি ছাত্রসংগঠন কাজ করছে। এ অবস্থায় সংগঠনের নাম নিয়ে সৃষ্ট বিভ্রান্তির অবসান এবং নিজেদের আদর্শিক ও সাংগঠনিক পরিচয় মূর্ত করার লক্ষ্যে আমরা নতুন নামে আত্মপ্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পুরনো নামের সাথে অনেক স্মৃতি ও আবেগ জড়িয়ে থাকলে ও সংগঠনের আদর্শ ও লক্ষ্যই তাদের কাছে প্রধান বলে মনে করেন তারা।

নতুন এ সংগঠনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য সম্পর্কে লিখিত বক্তব্যে তারা বলেন, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল যেকোনো গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অটল দৃঢ়তা প্রদর্শন করবে। বর্তমান বাম ধারার ছাত্র সংগঠনগুলো ছাত্রসমাজকে ঐক্যবদ্ধ করতে ব্যর্থ হয়েছে। এমতাবস্থায় গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল ছাত্রসমাজকে সংগঠিত করার লক্ষ্যে কাজ করবে।

নতুন নামে আত্মপ্রকাশের পর গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল তাদের কর্মসূচি হিসেবে তিন দফা দাবি উপস্থাপন করেন। তাদের দাবিগুলো হলো-

১. স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে পর্যায়ক্রমে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক হল-হোস্টেল খুলে দিতে হবে। রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে শিক্ষার্থীদের করোনাকালীন বেতন-ফি মওকুফ করতে হবে।

২. মতপ্রকাশের কারণে হয়রানি-নিপীড়ন বন্ধ করতে হবে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করতে হবে।

৩. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হল-হোস্টেলে একক দখলদারিত্বের অবসান ঘটিয়ে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত