ঢাকা, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ আপডেট : ৭ মিনিট আগে
শিরোনাম

সাবেক সতীর্থের চোখে মেসি  

  জার্নাল ডেস্ক

প্রকাশ : ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৫

সাবেক সতীর্থের চোখে মেসি  

২০০৫ সালের ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া আর্জেন্টিনা দলে লিওনেল মেসি ছিলেন প্রায় অপরিচিত এক মুখ। খুব কম লোকই তার নাম শুনেছিল, তার খেলা দেখেছিল আরও কম সংখ্যক মানুষ। তাই যখন বার্সেলোনার এই তরুণকে আর্জেন্টিনা দলে যোগ দেওয়ার সুযোগ করে দিতে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচের আয়োজন করা হয়, তখন দ্রুত কৌতূহল ছড়িয়ে পড়ে- এই মেসি আসলে কতটা ভালো করতে পারবে?

আর্জেন্টিনার সেই দলের অধিনায়ক পাবলো সাবালেতার কৌতূহল ছিল আরও বেশি। দক্ষিণ আমেরিকান যুব চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল আর্জেন্টিনা দল, একই সঙ্গে ২০০৫ সালের ফিফা বিশ্ব যুব চ্যাম্পিয়নশিপে (এখনকার ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ) যোগ্যতা অর্জনের আশা করছিল তারা। মেসি ছিলেন নবাগত, কিন্তু তার প্রথম অনুশীলন সেশনে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই সবাই বুঝে যায়, তার প্রতিভা নিয়ে গল্পগুলো সত্যি।

মেসির উত্থান একেবারে শুরু থেকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন সাবালেতা। পরে জাতীয় দলেও একসঙ্গে খেলেছেন দুজন। আর্জেন্টিনার সাবেক এই ডিফেন্ডার এখন ফিফার টেকনিক্যাল স্টাডি গ্রুপের সদস্য হিসেবে কাজ করছেন উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে। কোন বিষয় মেসিকে আজকের অসাধারণ এক ফুটবলার করে তুলেছে, ফিফার ওয়েবসাইটে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তা তুলে ধরেছেন তিনি।

২০০৫ সালে নেদারল্যান্ডসে অনুষ্ঠিত সেই ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার শিরোপা জয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন মেসি। তার ওই দারুণ পারফরম্যান্সই তাকে বিশ্ব ফুটবলে পরিচিত করে তোলে। দ্রুতই সুযোগ পেয়ে যান জাতীয় দলে।

৩৯ বছর বয়সী মেসি এখন চার বিশ্বকাপের মধ্যে তৃতীয় ফাইনাল খেলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ৪১ বছর বয়সী সাবালেতার মতে, মেসির লম্বা ক্যারিয়ারের রহস্যের মূল্যে আছে তার অনন্য মানসিকতা।

সাবালেতা বললেন, একেবারে প্রথম অনুশীলন সেশন থেকেই তিনি বুঝতে পেরেছিলেন মেসি কতটা ভালো খেলোয়াড়। আমরা ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে ছোট মাঠে অনেক ম্যাচ খেলতাম। আর মেসির দলে থাকলে, সহজে জেতাটা প্রায় নিশ্চিত ছিল। আমি খুব উপভোগ করতাম। তবে তার বিপক্ষে খেললে, ব্যাপারটা ছিল অন্যরকম, কারণ সে অন্যদের জন্য পরিস্থিতি খুব কঠিন করে তুলত। এত অল্প বয়সে এই স্তরের প্রতিভাবান একজন খেলোয়াড়কে দেখাটা ছিল সৌভাগ্যের। সে ছিল অসাধারণ।

সাবালেতা জানালেন, প্রথম দিকে কারো সঙ্গেই তেমন একটা কথা বলতেন না মেসি। সে সবসময়ই বেশ চাপা স্বভাবের ছিল। এমন কেউ ছিল না, যে শুরুতেই মন খুলে কথা বলত, অবশ্য এটা খুবই স্বাভাবিক ছিল, কারণ সে আমাদের কাউকেই ঠিকমতো চিনত না। কিন্তু ধীরে ধীরে সে আত্মবিশ্বাসী হতে শুরু করে।

সেই সময় (সের্হিও) আগুয়েরোর সঙ্গে একই কক্ষে থাকত সে। আর এটাই তাকে খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করেছিল। তারপর সে নেতৃত্বের ভূমিকায় বিকশিত হলো। আমরা সবাই তার ওপর আস্থা রাখতে শুরু করলাম। যখন সে বুঝতে পারল, তার জন্য দলের মধ্যে সবার কতটা ভালোলাগা আছে, সবাই তাকে কতটা আগলে রাখে, তখন সে মন খুলে কথা বলতে শুরু করল।”

২০১৪ বিশ্বকাপে খেলা সাবালেতার মতে, শুধু সহজাত প্রতিভা থাকলেই কেউ সেরা হয়ে ওঠে না। আমি মনে করি না যে, খেলোয়াড়রা শুধুমাত্র তাদের সহজাত দক্ষতার কারণে বিশ্বের সেরা হয়ে ওঠে। এর সঙ্গে আরও কিছু থাকতে হয়। আমার মতে সেটা হলো, একজনের অর্জন যা-ই থাকুক না কেন, বছরের পর বছর ধরে তার মধ্যে উন্নতি করার অফুরন্ত তাগিদ থাকতে হবে।

তার (মেসি) মানসিকতা অসাধারণ। এই খেলার প্রায় সবকিছুই সে জিতেছে, তবু সে কখনও আত্মতুষ্টিতে ভোগে না। বরং প্রতিটি সাফল্যই তাকে আরও বেশি কিছু অর্জনের জন্য অনুপ্রাণিত করেছে বলে মনে হয়।

৩৯ বছর বয়সেও এই বিশ্বকাপে দারুণ ছন্দে আছেন মেসি। সাত ম্যাচে করেছেন আটটি গোল ও চারটি অ্যাসিস্ট। দলের প্রয়োজনের সময়ে জ্বলে উঠেছেন নিয়মিত।

নিজেকে প্রতিনিয়ত আরও উন্নত করার মানসিকতাই মেসিকে এই পর্যায়ে নিয়ে এসেছে বলে মনে করেন সাবালেতা। মেসি যেখানেই খেলেছে, সেখানেই সাফল্য পেয়েছে। ৩৯ বছর বয়সেও, এবং টুর্নামেন্টের আগে তার ফিটনেস নিয়ে শঙ্কা থাকা সত্ত্বেও, সে আবারও দেখিয়েছে, কতটা প্রভাব সে রাখতে পারে। সে তার সর্বস্ব দিয়ে লড়াই করে এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে পার্থক্য গড়ে দেয়।

সে অন্য সবার চেয়ে অনেক এগিয়ে। তার সামর্থ্য সবার কাছেই স্পষ্ট, কিন্তু যা তাকে অন্যদের থেকে সত্যিকার অর্থে আলাদা করে তুলেছে, সেটা হলো তার নিজেকে আরও উন্নত করার মানসিকতা। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে সে এই খেলার শীর্ষে রয়েছে, কারণ সে নিজেকে আরও উন্নত করার চেষ্টা করা কখনও বন্ধ করেনি। যেকোনো যুগে খুব কম খেলোয়াড়ই এটা করতে পেরেছে। সূত্র: বিডি নিউজ

বাংলাদেশ জার্নাল/সিএম

  • সর্বশেষ
  • পঠিত