ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২০, ১৭ আশ্বিন ১৪২৭ আপডেট : ১ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৩:১৯

প্রিন্ট

৩০০ কিলোমিটার হেঁটে ৩ তরুণের প্রচারণা

৩০০ কিলোমিটার হেঁটে ৩ তরুণের প্রচারণা
জার্নাল ডেস্ক

পারিবারিক সহিংসতা, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড আর সীমান্তে ভিনদেশী বাহিনীর হত্যাকাণ্ডের মধ্যে জীবন নিতান্তই মূল্যহীন। এই জীবনের গুরুত্ব ও মূল্যবোধ উপলব্ধি করে পারিবারিক সহিংসতা, সীমান্তে নির্বিচারে মানুষ হত্যা বন্ধ ও বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সর্বোপরি হত্যার বিরুদ্ধে মানুষকে জাগিয়ে তুলতে ৩০০ কিলোমিটার পায়ে হেটে প্রচারণা চালিয়েছে ৩ তরুণ।

তাদের নেতৃত্ব দিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী বিডি রায়হান। রায়হানের গ্রামের বাড়ি বরিশালে হলেও বেড়ে উঠা ঢাকায়। বাকি দুজন হলেন, ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসায় আলিম পড়ুয়া মোহাম্মদ রাফী ও রংপুরের ছেলে আশরাফি আরাফাত আকাশ। তাদের পরিচয় হয়েছিল বন্যাদুর্গত এলাকায় ত্রাণ-সাহায্য দিতে গিয়ে. বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী রায়হান জানান, এটাই তার জীবনের প্রথম হাইকিং ছিল। তার জন্য সম্পূর্ণ নতুন রুট৷ খুব কম মানুষের এই অনন্য রুট সম্পর্কে ধারণা আছে৷

এতে যাত্রাপথ ছিল জামালপুরের লাউচাপড়া থেকে শুরু করে শেরপুরের ঝিনাইগাতি ও রাংটিয়া। সেখান থেকে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট হয়ে নেত্রকোনার দুর্গাপুর বিরিশিরি-কমলাকান্দা। পরে কমালাকান্দা থেকে সুনামগঞ্জের নীলাদ্রি লেক-শিমুল বাগান-লাউরেরগড়-মথুরাকান্দি-ডলুরা-খাগেরগাঁও। খাগেরগাঁও থেকে বঙুয়া বাজার-চান্দপুর-বাংলাবাজার-চারগাঁও বাজার-বনগাঁও বাজার হয়ে সিলেটের বিছানাকান্দি–জাফলং। পরে ৯ সেপ্টেম্বর (বুধবার) বিকাল ৪টায় সিলেটের তামাবিল জিরো পয়েন্টে এসে হাইকিং মিশন শেষ হয়েছে তাদের৷

টানা ১০ দিন তারা হেঁটেছেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পাহাড় বেষ্টিত ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেষা রাস্তা দিয়ে। রোমাঞ্চকর এই যাত্রার মধ্য দিয়ে দেশের হাইকিং প্রেমীদের জন্য তৈরি হলো নতুন একটি স্পট। এর আগে সীমান্তঘেঁষা অসমতল এই পথ দিয়ে কেউই হাইকিং এর মত চ্যালেঞ্জিং এই যাত্রায় অংশ নেননি। কিন্তু সবার ধারণাকে পাল্টে দিয়ে সীমান্তের এই পথ ধরে পাহাড়, নদী ও হাওর পেরিয়ে তিনশ' কিলোমিটারের হাইকিং মিশনের যাত্রার পরিসমাপ্তি ঘটিয়েছেন উদ্যমী এই তিন তরুণ।

সীমান্ত এই পথে প্রথম হাইকিং মিশন সেই সঙ্গে তিন তরুণের এক সঙ্গে এটি ছিলো প্রথম কোনো হাইকিং মিশন তাই সব মিলিয়ে বিষয়টি ছিলো বেশ আনন্দের ও উত্তেজনাপূর্ণ। ৩১ই আগস্ট জামালপুরের লাউচাপড়া থেকে সকাল ৯ টায় শুরু করেন তাদের যাত্রা। দীর্ঘ ২৬ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে পৌঁছান শেরপুরে রাংটিয়ায়। সেখান থেকে আবারো যাত্রা শুরু করে হালুয়াঘাট, দুর্গাপুর, পাঁচগাঁও, নীলাদ্রি লেক, মথুরাকান্দি,বাংলা বাজার, বিছানাকান্দি, জাফলং হয়ে বুধবার বিকেল চারটায় সিলেটের তামাবিল জিরো পয়েন্টে এসে তাদের হাইকিং মিশন শেষ হয়।

হাইকিং-এর রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে রায়হান বলেন, ‘বাংলাদেশের মানচিত্রের উত্তরে, ভারতের মেঘালয়ের তীর ঘেষে বর্ডার রোডে হাইকিং করাটা মোটেই সহজ কাজ ছিল না। অন্যান্য হাইকিং র‍্যুটের মত এই হাইকিং র‍্যুট সমতল, পাকা রাস্তা ছিল না। কখনো ছোট টিলা, কখনো কাদা রাস্তা, কখনো খাল, কখনো নদী পার হতে হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘২৫টির উপর নদী পার হয়েছি, যার মধ্যে অনেকগুলোতে নৌকা ছিল না বলে গলা সমান পানিতে ভিজে পার হতে হয়েছে। কখনো বৃষ্টিতে ভিজে, কখনো রোদে পুড়ে, কখনো আহত পা নিয়ে রাত ১১টা পর্যন্ত হাইকিং করেছি৷’

এর আগে রায়হান একাত্তরের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবিতে ও রক্তদিন জীবন বাঁচান স্লোগানে মানুষের মধ্যে রক্তদানে সচেতনতা বাড়াতে দেশের ৬৪ জেলা ভ্রমণ করেন। তাদের পরবর্তী মিশন ‘Walk for Climate Change’। এর জন্য এটা প্রাথমিক ট্রায়াল ছিল বলে জানিয়েছেন তিনি।

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত