ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০, ১২ কার্তিক ১৪২৭ আপডেট : ১৫ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৮:২৩

প্রিন্ট

চলাচল অনুপযোগী বাংলাবাজার-মির্জাপুর সড়ক

চলাচল অনুপযোগী বাংলাবাজার-মির্জাপুর সড়ক
গাজীপুর প্রতিনিধি

গাজীপুরের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের রাজেন্দ্রপুর থেকে বাংলাবাজার হয়ে মির্জাপুর বাজার পর্যন্ত সড়কটির দেড় কিলোমিটার পথ চলাচল অনুপযোগী। খানা-খন্দ আর জলাবদ্ধতায় সয়লাব সড়কের প্রায় দেড় কিলোমিটার অংশ। সাত কিলোমিটার সড়কের ওই অংশের জন্য ভালো অংশটুকু ব্যবহারের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এলাকাবাসী।

অপরদিকে, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক থেকে মাস্টারবাড়ি-মির্জাপুর রোডের সাগর মার্কেট থেকে মির্জাপুর বাজার পর্যন্ত তিন কিলোমিটার চলাচল অনুপযোগী রাস্তার জন্য ৭ কিলোমিটারের ভালো পথ ব্যবহারের সুফল পাচ্ছেন না পথচারীরা। শিল্প কারখানা অধ্যুষিত ওই রাস্তা দুটি দিয়ে কমপক্ষে ১০ লাখ লোকের চলাচল বলে দাবি করেছেন এলাকাবাসী।

সড়ক দুটির ওইসব অংশ গত প্রায় সাত বছর যাবত চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়ক দুটি পাকা করে নির্মাণ হলেও বর্তমানে খানা-খন্দ, কর্দমাক্ত, জলাবদ্ধতা আর ধুলোবালিতে একাকার হয়ে থাকে সারা বছর। পিচ ঢালাই ও পাকা রাস্তার উপকরণের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে পড়েছে আরো আগেই।

অটোরিকশাচালক সোবাহান রাজেন্দ্রপুর-মির্জাপুর রোডে অটো চালান। তিনি জানান, সড়কের মেম্বারবাড়ি থেকে বটতলা মোড় পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার চলাচলে একবারেই অনুপযোগী। সপ্তাহে একাধিকবার যাত্রী নিয়ে পানির নিচে গর্তে পড়ে অটোরিকশা উল্টে যায়। দুই শতাধিক অটোরিকশা চলাচল করে এ সড়কে। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক পর্যন্ত যেতে বিকল্প কোনো রাস্তাও নেই।

কাভার্ডভ্যানচালক নাজমুল হাসান বলেন, কারখানার পণ্যবাহী কাভার্ডভ্যান ও মেশিনপত্র বহনকারী কন্টেইনারগুলো প্রায়ই সড়কের গর্তে আটকে পড়ে দীর্ঘ সময়ের যানজটের সৃষ্টি করে।

শহীদুল ইসলাম স্থানীয় একটি রপ্তানিমুখী কারখানার জ্যৈষ্ঠ প্রশাসনিক ব্যবস্থাপক। তিনি জানান, বাসা থেকে ভালো কাপড় পরে বের হয়ে রাস্তাটুকু পার হলে আবার কাপড় বদলানোর প্রয়োজন পড়ে। অফিস থেকে ফেরার পর বাসায় গেলে আবারো একই অবস্থার সৃষ্টি হয়। এ সড়কের যাতায়াতে কাদা-পানিতে কাপড় চোপর ময়লা হওয়া বাধ্যতামূলক ঘটনা।

এমন আরেক সাইকেল পার্টসের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মো. ওমর আলী বলেন, আট বছরের মধ্যে একবছর ভালভাবে ব্যবসা করেছেন। কিন্তু গত সাত বছরের মধ্যে বিশেষ করে বর্ষাকালে ভোক্তার সংখ্যা কমে যায়।

করোনার জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হয়তো এখন বন্ধ কিন্তু এমন ছুটি আমাদের সন্তানদের প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে কাটাতে হয় শুধুমাত্র জলাবদ্ধতা আর কাদা-পানি রাস্তার জন্য। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মান্নান এমন অভিযোগ করে বলেন, গ্রাম থেকে দেড় কিলোমিটার পথ বা অন্যদিকে তিন কিলোমিটার পথ পার হলেই পাকা সড়ক। সামান্য অচল সড়কের জন্য ভালো পাকা সড়কের সুফল আমরা ভোগ করতে পারছি না।

মোক্তার হোসেন নোমান টেরি টাওয়েল মিলস লিমিটেডের রিবন শাখার একজন শ্রমিক। তিনি বলেন, মাস্টারবাড়ি-মির্জাপুর সড়কের সাগর মার্কেট থেকে মির্জাপুর বাজার পর্যন্ত তিন কিলোমিটার পথ পুরোটাই জলাবদ্ধতা আর কাদা পানির পথ। এ সড়কে পায়ে হেঁটে পথ পাড়ি দেয়ার জো নেই।

সুইং শাখার শ্রমিক আহাম্মদ আলী বলেন, রাস্তা খারাপ থাকায় যানবাহনে বাড়তি ভাড়া গুণতে হয়। সুইং অপারেটর হালিমা খাতুন ও ইয়াসিন মাহমুদ বলেন, শ্রমিক-কর্মচারী বা তার মতো অন্য কোথাও কর্মরত ব্যক্তিরা সময়মতো কর্মস্থলে যেতে পারেন না। এতে সাধারণ শ্রমিকদের হাজিরা বোনাস, ওভারটাইম থেকে টাকা কাটা যাচ্ছে। শুধুমাত্র সড়ক চলাচল অনুপযোগিতার কারণে তারা শ্রম বিক্রি করেও অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

নোমান টেরি টাওয়েল মিলস লিমিটেডের মানব সম্পদ বিভাগের সহকারী মহা-ব্যবস্থাপক (এজিএম) জাহিদুল হক সাংবাদিকদের বলেন, সড়কে অচলাবস্থার কারণে বায়াররা গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানগুলোতে আসতে চায় না। একই প্রতিষ্ঠানের মহাব্যবস্থাপক আব্দুর রউফ খান বলেন, পণ্যবাহী কাভার্ডভ্যান ও কন্টেইনার সড়কের গর্তে আটকে পড়ায় কোনো কোনো সময় রপ্তানি করা পণ্যের শিপমেন্ট মিসিং হয়।

এসব বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল বারেক জানান, সড়ক দুটি সাত বছর ধরে চলাচল অনুপযোগী নয়। তিন বছর আগে সংস্কার করা হয়েছিল। সংস্কারের কিছুদিন পরই সিটি কর্পোরেশন তুরাগ নদী পর্যন্ত তাদের ড্রেন নির্মাণকাজের খনন শুরু করে। এরপর থেকে চলাচল সমস্যা দেখা দেয়। এ বিষয়টি জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় উত্থাপন করা হয়েছে। সিটি কর্পোরেশন সড়কটি মেরামত করবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

অন্যদিকে, মেম্বারবাড়ি থেকে বটতলা পর্যন্ত ওই সড়কের সাড়ে তিন’শ মিটার সড়ক সংস্কারের জন্য ইতোমধ্যে দরপত্র আহবান করা হয়েছে।

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন জোন-৫ এর নির্বাহী প্রকৌশলী হাসিবুল ইসলাম বলেন, রাস্তাটুকু সিটি কর্পোরেশনের আওতার বাইরে। যেহেতু সিটি কর্পোরেশনের ড্রেন নির্মাণকাজের জন্য রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেহেতু, রাস্তার মেরামত কাজ সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকেই করে দেয়া হবে। ড্রেনের কিছু পয়েন্ট কানেক্টিং বাকি রয়েছে। তা শেষ করে মেরামত খুব শিগগির শুরু হবে। ইতোমধ্যে সড়ক মেরামতের জন্য ঠিকাদার নির্বাচন করা হয়েছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত