ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৪ মার্চ ২০২১, ১৯ ফাল্গুন ১৪২৭ আপডেট : ৩ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০৮ জানুয়ারি ২০২১, ১৭:১১

প্রিন্ট

বিপ্লবী নির্মল সেনের অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী

বিপ্লবী নির্মল সেনের অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী
নির্মল সেন। ফাইল ফটো

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

বিশিষ্ট সাংবাদিক, কলামিষ্ট, লেখক, রাজনীতিবিদ ও মুক্তিযোদ্ধা নির্মল সেনের ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১৩ সালের ৮ জানুয়ারি সন্ধ্যায় ৮৩ বছর বয়সে রাজধানী ঢাকার ল্যাবএইড হাসপাতালে তিনি পরলোক গমন করেন।

শুক্রবার নির্মল সেনের ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় নির্মল সেন স্কুল এ্যান্ড মহিলা কলেজের উদ্যোগে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

নির্মল সেনের ভাতিজা ও সাংবাদিক রতন সেন কংকনের সভাপতিত্বে সকাল ১০টায় নির্মল সেন স্কুল এ্যান্ড মহিলা কলেজ চত্বরে অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় প্রফেসর গৌরঙ্গ লাল চৌধুরী, প্রফেসর কার্তিক চন্দ্র বিশ্বাস, পিঞ্জুরী ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের দেবতোষ দে, ছাত্রনেতা রাশেদ চৌধুরী, সাংবাদিক মিজানুর রহমান বুল, সাংবাদিক গৌরঙ্গ দাস বক্তব্য রাখেন। এ সময় বক্তরা নির্মল সেনের জীবনদর্শন তুলে ধরে।

সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতা জগতের এক উজ্জল নক্ষত্র, সাংবাদিক, কলামিস্ট, বাম রাজনীতির পুরোধা ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক নির্মল সেন ১৯৩০ সালের ৩ আগস্ট গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার দিঘীরপাড় গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত হিন্দু পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম সুরেন্দ্রনাথ সেন গুপ্ত ও মায়ের নাম লাবন্য প্রভা সেন গুপ্ত। পাঁচ ভাই ও তিন বোনের মধ্যে নির্মল সেন ছিলেন পঞ্চম।

নির্মল সেনের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় স্কুলজীবন থেকে 'ভারত ছাড়' আন্দোলনের মাধ্যমে। কলেজ জীবনে তিনি অনুশীলন সমিতির সক্রিয় সদস্য ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি রেভ্যুলেশনারি সোশ্যালিস্ট পার্টিতে (আরএসপি) যোগ দেন। দীর্ঘদিন তিনি শ্রমিক কৃষক সমাজবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। রাজনীতি করতে গিয়ে নির্মল সেনকে জীবনের অনেকটা সময় জেলে কাটাতে হয়েছে।

নির্মল সেন দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় সাংবাদিকতার মধ্যেদিয়ে সাংবাদিকতার জীবন শুরু করেন ১৯৫৯ সালে। তারপর দৈনিক আজাদ, দৈনিক পাকিস্তান, দৈনিক বাংলা পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন। তিনি বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন।

লেখক হিসেবেও নির্মল সেনের যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। তার লেখা “পূর্ব পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ”, “মানুষ সমাজ রাষ্ট্র”, “বার্লিন থেকে মষ্কো”, “মা জন্মভূমি”, “স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চাই” ও “আমার জবানবন্দি” উল্লেখযোগ্য।

২০০৩ সালে ব্রেইন স্ট্রোক হলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সরকার থাকা অবস্থায় পাঁচ লাখ, আওয়ামী লীগসহ ১১ দল সাড়ে চার লাখ ও বিভিন্ন পেশাজিবী সংগঠন তার চিকিৎসায় অর্থ সহায়তা দেয়। ওই টাকা দিয়ে তাকে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ থ্রি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

কিন্তু ৫৯ দিন চিকিৎসার পর টাকা না থাকায় চিকিৎসা শেষ না করেই তাকে দেশে ফিরে আসতে হয়। সাহসী এ সাংবাদিক রোগাক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ বিনা চিকৎসায় ভুগেছেন। অর্থ সঙ্কটে তার চিকিৎসাও প্রায় বন্ধ ছিলো। ২০১৩ সালের ৮ জানুয়ারি তিনি রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে ৮৩ বছর বয়সে পরলোক গমন করেন।

নির্মল সেনের ভাতিজা সাংবাদিক রতন সেন কংকন জানান, নির্মল সেনের ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী পালন উপলক্ষে নির্মল সেন স্কুল এ্যান্ড মহিলা কলেজ পৃথকভাবে স্মরণসভার আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত