এশিয়ার প্রথম ‘এলিফ্যান্ট ওভারপাস’: নিচ দিয়ে ট্রেন, ওপর দিয়ে হাতি
মনির ফয়সাল, চট্টগ্রাম থেকে
প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০২৩, ১০:২১

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের বুক চিরে নির্মিত হয়েছে এশিয়ার প্রথম ‘এলিফ্যান্ট ওভারপাস’। দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইনের কারণে বন্যপ্রাণী চলাচলে যেন বাধা সৃষ্টি না হয়, সে লক্ষ্যেই নেয়া হয়েছে এ উদ্যোগ। এ ওভারপাসের ওপর অংশ দিয়ে হাতি ও নিচ দিয়ে ট্রেন চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
জানা যায়, চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের মাঝ দিয়ে গেছে রেললাইন। এর প্রায় ১০ কিলোমিটার অংশ অভয়ারণ্যের মধ্যে পড়েছে। এই অংশে বন্যহাতির চলাচলে যাতে সমস্যা না হয় বিষয়টি মাথায় রেখে তিনটি আন্ডারপাস ও একটি ওভারপাস নির্মাণ করা হয়েছে। ‘এলিফ্যান্ট ওভারপাস’ নির্মাণের জায়গা নির্ধারণের জন্য এশিয়ার উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ দল প্রায় দুই বছর কাজ করেছেন। ভারত–বাংলাদেশ–মিয়ানমারের মধ্যে যাতায়াত করা এশিয়ান প্রজাতির হাতি সবচেয়ে বেশি চলাচল করে চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য এলাকা দিয়ে।
ওভারপাস দিয়ে হাতিরা এক পাহাড় থেকে অন্য পাহাড়ে যাতায়াত করতে পারবে। অপরদিকে অভয়ারণ্য এলাকায় বন্যপ্রাণীরা যাতে রেললাইনে আসতে না পারে তার জন্য করা হচ্ছে লবণ পানির লেক। বন্যহাতি লবণ পানি পান করতে পছন্দ করে। এছাড়া বন্যহাতির দল কোথাও পানি দেখলে সেখানে অবস্থান করতেও পছন্দ করে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ৫০ মিটার দীর্ঘ এলিফ্যান্ট ওভারপাসের কাজ প্রায় পুরোটা সম্পন্ন হয়েছে। ওভারপাসের উপরে লাগানো হয়েছে হাতির পছন্দের কলা, বাঁশসহ প্রায় ৪১ প্রজাতির গাছ। যার ফলে এই ওভারপাস দিয়ে যাতায়াতে আকৃষ্ট হবে বন্যহাতির দল। ওভারপাসের দুই পাশে নির্দিষ্ট এলাকা পর্যন্ত সীমানা প্রাচীরের কাজ চলমান রয়েছে। ফলে চেষ্টা করলেও এই সীমানা প্রাচীরের কারণে বন্যহাতির দল রেললাইনে যেতে পারবে না।
জানা যায়, চীনের দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন (সিআরইসি) ও চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশন (সিসিইসিসি) প্রকল্পের নির্মাণকাজ করছে। এছাড়া বাংলাদেশের তমা কনস্ট্রাকশন কোম্পানি ও ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড এ প্রকল্পের কাজের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। তমা কনস্ট্রাকশনের সাইট ইঞ্জিনিয়ার মো. সাকিল আহমেদ বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়া এটাই প্রথম স্থাপনা, যা আমাদের দেশের জন্য গৌরবের। হাতির স্বাভাবিক চলাচলে যাতে কোনো প্রকার সমস্যা তৈরি না হয় সে লক্ষ্যে এ ওভারপাস নির্মাণ করা হয়েছে। আগামী ১৫ অক্টোবর এ রুটে রেল ট্রায়াল দেয়া হবে। সে ট্রায়ালের জন্য আমাদের এ পথ প্রস্তুত আছে।’
চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য রেঞ্জ কর্মকর্তা মাহমুদ হোসেন জানান, বন্যহাতির দল যে করিডোর দিয়ে বেশি যাতায়াত করে, সেখানেই এলিফ্যান্ট ওভারপাস নির্মাণ করা হয়েছে। তবে বন্যপ্রাণীরা ওভারপাস ও আন্ডারপাস দিয়ে যাতায়াতে অভ্যস্ত নয়। এভাবে চলাচল করতে একটু সময় লাগবে।
সম্প্রতি বাংলাদেশ রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. হুমায়ুন কবীর চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে নির্মিত এলিফ্যান্ট ওভারপাস পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি জানান, প্রকৃতি ও পরিবেশের কথা বিবেচনা করে এলিফ্যান্ট ওভারপাস নির্মাণ করা হয়েছে। এশিয়ার কোনও দেশে বন্যপ্রাণী চলাচলের জন্য এমন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। জায়গা নির্ধারণে জন্য এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ দল প্রায় দুই বছর কাজ করেছে। সব কাজ শেষ হলে ওপর দিয়ে চলাচল করবে হাতিসহ নানান বন্যপ্রাণী, নিচ দিয়ে চলবে ট্রেন।
বাংলাদেশ জার্নাল/ওএফ










