ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ১ কার্তিক ১৪২৬ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে English

প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৭:১৬

প্রিন্ট

গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
বরিশাল প্রতিনিধি

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার সাতলা ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামে যৌতুকের এক লাখ টাকা না দেয়ায় এক সন্তানের জননী রিমা আক্তারকে (২৪) শ্বাসরোধে হত্যার পর গাছের সাথে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যার অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ঘটনার পর থেকে ওই গৃহবধূর স্বামী, শ্বশুড়-শাশুড়ি ও দেবর পলাতক। স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে রোববার দুপুরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তার লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

পলাতকরা হচ্ছেন, রিমার স্বামী মিজানুর রহমান, শ্বশুর আব্দুল মান্নান বেপারী, শাশুড়ি আকলিমা বেগম, দেবর মোসাদেক বেপারী ও দেবরের স্ত্রী নাজমুন্নাহার।

নিহত রিমা বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার জয়রামপট্টি গ্রামের মৃত বাবুল মিয়ার মেয়ে এবং পাশ্ববর্তী উজিরপুরের সাতলা গ্রামের মিজানুর রহমান বেপারীর স্ত্রী। ৮ বছর আগে পরিবারিকভাবে মিজানুরের সাথে রিমার বিয়ে হয়। শ্যামবর্ণের হওয়ায় বিয়ের সময় রিমার পরিবার থেকে মিজানুরকে নানা উপঢৌকন দেয়া হয়েছিলো। এরপরও বিভিন্ন সময় নানাভাবে মিজানুরকে সহায়তা করে রিমার পরিবার। তাদের ৫ বছর বয়সের ছেলে সন্তান রয়েছে।

রিমার চাচা গোলাম মাওলা জানান, সম্প্রতি রিমাকে তার পরিবারের কাছ থেকে ১ লাখ টাকা এনে দিতে চাপ দেয় তার স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ি ও দেবর। রিমা টাকা এনে দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার ওপর নির্যাতন শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার রাতে রিমাকে শ্বাসরোধে হত্যার পর তার মরদেহ ঘরের পাশের আমগাছের সাথে ঝুলিয়ে রেখে স্বামীর পরিবারের সদস্যরা আত্মহত্যা বলে অপপ্রচার চালায়। আমগাছে ঝুলানো রিমার পা মাটিতে লেগেছিলো বলে দাবি করেন তিনি।

উজিরপুর থানার ওসি শিশির কুমার পাল জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে গৃহবধূ রিমার লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বরিশাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বোঝা যাবে এটি হত্যা না আত্মহত্যা। এরপর যথযথ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বাংলাদেশ জার্নাল/আরকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত