শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করা পর্যন্ত দিল্লির রাজপথেই থাকবেন ককোরোচ পার্টির সমর্থকরা
জার্নাল ডেস্ক
প্রকাশ : ২২ জুন ২০২৬, ১৮:৪৬

ভারতে সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে গড়ে ওঠা জেন-জি প্রজন্মের অভিনব আন্দোলনের দল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) সমর্থকরা পুলিশের নির্দেশ অমান্য করে রাজধানী দিল্লির রাজপথে অবস্থান নিয়েছেন।
ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে নয়াদিল্লির রাস্তায় তাদের এই আন্দোলন চলছে। জুন মাসের তীব্র গরমের মধ্যেই রাতভর রাস্তা ও ফুটপাতে অবস্থান করেছেন আন্দোলনকারীরা।
তীব্র পুলিশি পাহারার মধ্যেই আন্দোলনের দ্বিতীয় দিনে আরও মানুষ সমবেত হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তারা রাজপথেই অবস্থান করার অনড় অবস্থান জানাচ্ছে।
অনলাইনে ব্যাপকভাবে ভাইরাল ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতা বোস্টন ইউনিভার্সিটির সদ্য স্নাতক পাস করা অভিজিৎ দিপকে চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতে ফিরেছেন। ভারতীয় যুবসমাজের মধ্যে জমাট বাঁধা ক্ষোভকে অনলাইন থেকে রাজপথে নামিয়ে আনতেই তার এই দেশে ফেরা।
ভারতের ১৪০ কোটি জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকই ২৫ বছরের কম বয়সী। প্রতিনিয়ত প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং ফলাফলে অনিয়মের কারণে চাকরি ও পড়াশোনার চরম চাপে থাকা যুবসমাজের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এই ক্ষোভকে কাজে লাগিয়েই ককরোচ জনতা পার্টি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করছে।
কিছুদিন আগেও এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেবলই কৌতুক আর ব্যঙ্গাত্মক পোস্টের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। গত মে মাসে ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্য তরুণ প্রজন্মকে ‘তেলাপোকা’ বা ককরোচের সাথে তুলনা করলে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সে সময় এক্স-এ অভিজিৎ দিপকে লিখেছিলেন, "সব তেলাপোকা যদি একসঙ্গে জড়ো হয়, তবে কী হবে?"
মুহূর্তের মধ্যে এই পোস্ট ভাইরালে রূপ নেয়। দিপকে দলটির জন্য একটি অফিশিয়াল ওয়েবসাইট তৈরি করেন এবং এর ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ারের সংখ্যা ২ কোটি ২০ লাখ ছাড়িয়ে যায়, যা ভারতের গত ১২ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা ক্ষমতাসীন দলের ফলোয়ারের চেয়ে দ্বিগুণ। গত ৬ জুন নতুন দিল্লিতে প্রথম বিক্ষোভ করার পর মুম্বাই, বেঙ্গালুরু ও নাগপুরসহ বেশ কয়েকটি শহরে এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে।
নয়াদিল্লির নির্দিষ্ট প্রতিবাদস্থল যন্তর মন্তরে মধ্যরাতেও ১৮ বছর বয়সী শচীন কুমার তার নতুন বন্ধু শুভঙ্করের সাথে রাস্তায় শুয়ে হেডফোনে গান শুনছিলেন। কুমার গত মাসে ভারতের শীর্ষ মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষার জন্য এক বছর কঠোর পড়াশোনা করেছিলেন। কিন্তু প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে পরবর্তীতে পরীক্ষাটি বাতিল করা হয়।
আল জাজিরাকে তিনি বলেন, এটি আমার মনোবল ভেঙে দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা হতাশায় ডুবে যাচ্ছে কিন্তু কারও কোনো মাথাব্যথা নেই।" রোববার প্রায় ১৭ লাখ শিক্ষার্থী আবারও সেই পরীক্ষায় অংশ নিলেও কুমার পরীক্ষার হলে না গিয়ে প্রতিবাদস্থলেই থেকে যান।
এদিকে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে ভারত সরকার সাময়িকভাবে মেসেজিং অ্যাপ ‘টেলিগ্রাম’ নিষিদ্ধ করেছে। তবে সরকারের সমালোচকরা একে একটি ‘সাময়িক জোড়াতালির সমাধান’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
দুই পরীক্ষার মধ্যবর্তী দিনগুলোতে ভারতের বিভিন্ন স্থানে এক ডজনেরও বেশি শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন, যা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিকে আরও জোরালো করেছে।
কুমার বলেন, এই পরীক্ষা বা অন্য কোনো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার স্বচ্ছতার ওপর আমার আর কোনও আস্থা নেই। অযোগ্য মন্ত্রীদের কারণে ভারতের সবকিছু আজ হুমকির মুখে।
গত শনিবার সন্ধ্যা থেকে দিল্লির পুলিশ ব্যারিকেড দেওয়া আন্দোলনস্থল থেকে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিতে সাময়িকভাবে পানি ও খাবার সরবরাহ বন্ধ করাসহ নানা চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করছে।
তবে যুবকদের উদ্যম তাতে কমেনি। মধ্যরাতের পর সেখানে অবস্থান নেওয়া তরুণদের কেউ কেউ হিপ-হপ গানের তালে নাচছিল, আবার কেউ কেউ গোল হয়ে বসে দেশের রাজনীতি নিয়ে গভীর আলোচনায় মগ্ন ছিল।
ককরোচ পার্টি নেতা অভিজিৎ দিপকে এবং তার সমর্থকরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তারা স্থান ছাড়বেন না। শিক্ষামন্ত্রী সত্যই পদত্যাগ করলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ১২ বছরের শাসনামলে এটিই হবে প্রথম কোনও মন্ত্রীর পদত্যাগের ঘটনা।
দিপকে অবশ্য নিশ্চিত যে, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। আল জাজিরাকে তিনি বলেন, সরকার যদি মনে করে তারা আমাদেরকে ক্লান্ত করে দিতে পারবে, তবে তারা ভুল ভাবছে। আমরা এখানেই থাকব।
বাংলাদেশ জার্নাল/সিএম










