নেতানিয়াহু নিউ ইয়র্ক গেলে গ্রেপ্তারের আইনি পথ খুঁজছেন মেয়র মামদানি
জার্নাল ডেস্ক
প্রকাশ : ১৯ জুলাই ২০২৬, ১২:০৬ আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২৬, ১২:১৩

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যদি আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউ ইয়র্ক সফর করেন, তাহলে তাকে গ্রেপ্তার করার মত কোনো আইনি এখতিয়ার নিউ ইয়র্ক নগর প্রশাসনের আছে কি না, তা খতিয়ে দেখার কথা বলেছেন শহরের মেয়র জোহরান মামদানি।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের আদেশের প্রসঙ্গ টেনে তিনি নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, “আমি বিশ্বাস করি, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর স্থান হেগে (আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত) হওয়া উচিত।”
মেয়র বলেন, “তিনি একজন যুদ্ধাপরাধী, যার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) অভিযোগ এনেছে।
“আর আপনি দেখবেন, গত কয়েক বছরে তার কর্মকাণ্ড যে পরিণতি ডেকে এনেছে, সে কারণে অনেকেই এমন মত পোষণ করেন।”
মামদানি বলেন, কোনো বিদেশি নেতাকে গ্রেপ্তারে নিউ ইয়র্ক পুলিশকে নির্দেশ দেওয়ার এখতিয়ার তার আছে কি না, তা যাচাই করতে আইন বিভাগের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ হচ্ছে।
নিউ ইয়র্ক টাইমসকে তিনি বলেন, “আইন আমাকে যা করার অনুমতি দেয়, আমরা সেটাই করব। তবে সেজন্য আমরা নতুন কোনো আইন তৈরি করব না।”
মামদানি এর আগে তার নির্বাচনি প্রচারের সময় নিউ ইয়র্ক টাইমসকে বলেছিলেন, গাজায় আগ্রাসনের জেরে নেতানিয়াহুর ওপর আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে, নির্বাচিত হলে সে অনুযায়ী ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ তিনি পুলিশকে দেবেন।
মামদানি এবং জাতিসংঘের একটি কমিশন গাজায় ইসরায়েলের আগ্রাসনকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে বর্ণনা করে আসছেন।
তবে সম্প্রতি এক রেডিও সাক্ষাৎকারে সম্ভাব্য গ্রেপ্তারের বিষয়টি উড়িয়ে দেন নেতানিয়াহু।
তিনি বলেন, এ নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন নন। বরং তিনি মামদানির বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসকে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস ইসরায়েলে হামলা করার পরই গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল।
রেডিও হোস্ট সিড রোজেনবার্গকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, “আমার মনে হয়, তার দেখা উচিত সে কার নিন্দা করছে আর কার প্রশংসা করছে।”
তিনি এও বলেন, “তিনি ইসরায়েলের নিন্দা করছেন, যেটি একমাত্র গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে আমেরিকার মূল্যবোধের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এবং সত্যি বলতে আমার মনে হয়, তিনি মনে মনে আমেরিকাকে ঘৃণা করেন।”
জাতিসংঘে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন মামদানির বিরুদ্ধে নিউ ইয়র্ক সিটিতে বাড়তে থাকা ইহুদি-বিদ্বেষ মোকাবিলায় যথাযথ ভূমিকা না রাখার অভিযোগ এনেছেন।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অভিযোগ অস্বীকার করে মামদানি বলেছেন, তার প্রশাসন ঘৃণা ছড়ানোর অপরাধ দমনে সিটির বিশেষ দপ্তরের বাজেট বা অর্থায়ন বাড়িয়েছে।
মামদানি ইসরায়েলের ওপর হামাসের ৭ অক্টোবরের হামলার নিন্দা জানিয়েছেন, একইসঙ্গে ইসরায়েলের সমালোচনা করাকে তার রাজনৈতিক প্রচারের অন্যতম অংশ করে তুলেছেন।
নিউ ইয়র্ক টাইমস লিখেছে, মামদানির ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা বলছেন, তিনি ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকে তার প্রজন্মের অন্যতম প্রধান নৈতিক লড়াই হিসেবে দেখেন।
বাংলাদেশ জার্নাল/এনএম










