ঢাকা, শনিবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২১, ২ মাঘ ১৪২৭ আপডেট : ২ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২৮ নভেম্বর ২০২০, ১৮:০৫

প্রিন্ট

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের বিরোধিতা করছেন ধর্মব্যবসায়ীরা

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের বিরোধিতা করছেন ধর্মব্যবসায়ীরা
বিএম মোজাম্মেল হক। সঙ্গে প্রতিবেদক। ছবি: নিজস্ব।

শেখ তৌফিকুর রহমান

আওয়ামী লীগের সুপরিচিত এক নাম বি এম মোজাম্মেল হক। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মাঝে জনপ্রিয় এ নেতা টানা দুবার দলের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে, জেল-জুলুম-নির্যাতন ভোগ করে, দলীয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আজ এ পর্যন্ত এসেছেন। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত মোজাম্মেল দলীয় নীতি-আদর্শের প্রশ্নে অবিচল। স্পষ্টভাষী এ নেতা দলীয় কোনো অসঙ্গতি থাকলে অকপটে বলতে দ্বিধা করেন না। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরীয়তপুর-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচত হয়ে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেন মোজাম্মেল। দশম জাতীয় নির্বাচনেও জয়ের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকে। সম্প্রতি দেশের সমসাময়িক ও রাজনৈতিক অবস্থা নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতা বিএম মোজাম্মেল হক কথা বলেছেন বাংলাদেশ জার্নালের সঙ্গে। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জার্নালের নিজস্ব প্রতিবেদক শেখ তৌফিকুর রহমান। সাক্ষাৎকারের মূল অংশ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণের বিরোধিতা করছে কিছু ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক সংগঠন। আবার দেখা যাচ্ছে ভাস্কর্য বিরোধিতাকরীদের বিরুদ্ধেও আন্দোলন হচ্ছে। সাম্প্রতিক এই বিষয়টি নিয়ে আপনি কী বলবেন?

বিএম মোজাম্মেল: বিভিন্ন সময়ে এই উপমহাদেশে প্রচার করা হয়েছিলো ইংরেজি শিখলে ইমান থাকবে না। পবিত্র কোরআনের কোথাও সেটা লেখা নেই। ইসলামে মূর্তি পূজা নিয়ে নিষেধাজ্ঞা আছে। দেব-দেবীর উপাসনা নিষিদ্ধ রয়েছে। তবে ভাস্কর্য তৈরিতে নিষেধাজ্ঞা নেই। এ দেশে কিছু ধর্ম ব্যবসায়ী রয়েছেন, যারা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণ নিয়ে বিরোধিতা করছেন। তারা মূর্তি ও ভাস্কর্যের পার্থক্য বোঝে না। দেশের জনগণ এই ধর্ম ব্যবসায়ীদের হাড়ে হাড়ে চেনে। দেশের মানুষের কল্যাণে এরা কিছু যে করতে পেরেছে তার কোনো নজির নেই। তারাই মূলত বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণের বিরোধিতা করছে।

ভাস্কর্য তো সব দেশেই রয়েছে। তাহলে তারা কী উদ্দেশ্যে বিরোধিতা করছে?

বিএম মোজাম্মেল: পৃথিবীর প্রত্যেকটি ইসলামিক রাষ্ট্রেই ভাস্কর্য রয়েছে। মিশন, সৌদি, আরব, ইরান, তুরস্কসহ সব জায়গায় বিভিন্ন ভাস্কর্য দেখা যায়। এগুলো একটি জাতির অতীত ঐতিহ্য বহন করে। একটি দেশের সাংস্কৃতিকে তুলে ধরে। বঙ্গবন্ধু মহান মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়ে এদেশের স্বাধীনতা এনেছেন। তার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে ভাস্কর্য নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। তাছাড়া ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবন বিধান। সেটাকে ধ্বংস করার জন্য অর্ধ শিক্ষিত ধর্মব্যবসায়ীরা ব্যবসা করতে চায়। দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির মাধ্যমে রাজনৈতিক ফয়দা হাজিল করতে চায়। কিন্তু এদেশের জনগণ সেটা হতে দেবে না। ধর্মব্যবসায়ীদের জনগণ কোনো রকমের প্রশ্রয় দেবে না।

জেলার শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ ব্যবস্থা নেয়া শুরু করেছে। এর মাধ্যমে দল তৃণমূলে কী ধরণের বার্তা দিতে চায়?

বিএম মোজাম্মেল: আওয়ামী লীগের তৃণমূল কিংবা কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ যদি দায়িত্ব পালনে অবহেলা বা ত্রুটি করে থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা রয়েছে। আমাদের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নেত্রীকে ক্ষমতা দেয়া আছে। তিনি সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। দুটি জেলা ইউনিটের ক্ষেত্রে নেত্রী সেই সিদ্ধান্তই নিয়েছেন।

বেশ কয়েকটি জেলা কমিটির পূর্ণাঙ্গ অনুমোদন দেয়া হয়েছে। বাকি যে সব জেলায় সম্মেলন হয়েছে কিন্তু পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি সেসব ইউনিটের কি অবস্থা?

বিএম মোজাম্মেল: হ্যাঁ, খুলনা জেলা শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি রেডি রয়েছে। সাতক্ষীরা নিয়ে বসলাম। আমাদের প্রায় সব ইউনিটের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে আলোচনা শেষ হয়েছে। অনান্য বিভাগেরও একই অবস্থা।

আপনি খুলনা বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন। আপনার বিভাগে জেলা ইউনিটগুলোর সাংগঠনিক অবস্থা কেমন?

বিএম মোজাম্মেল: খুলনায় আমাদের ১১টি সাংগঠনিক জেলা ইউনিট রয়েছে। সেগুলোর মধ্যে ৬টিতে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাকি ৫টির সম্মেলনও সম্পন্ন করা হবে। গেল ডিসেম্বরে কনফারেন্স শুরু করি। মার্চে দেশে লকডাউন শুরু হলে সব কিছু স্থবির হয়ে যায়। সে সময়ে আমরা দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। করোনা আক্রান্ত মানুষকে স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন সেবা প্রদান করি। পুরো করোনাকালীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মানবতার সেবায় নিয়োজিত ছিলেন। সে সময় সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে আলোচনা বা কমিটি গঠন সম্ভব ছিলো না।

এখন কী পরিস্থিতি সংগঠনের?

বিএম মোজাম্মেল: নেত্রীর নির্দেশে এখন আবার সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আশা করছি, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে খুলনা বিভাগের যেসব জায়গায় কাউন্সিল হয়েছে সেসব জেলা উপজেলায় কমিটি সম্পন্ন করতে পারবো। সম্প্রতি আমরা খুলনা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত যারা আছি তারা মিটিং করেছি। সেখানে আমরা কয়েকজনকে দায়িত্ব দিয়েছিলাম কোন কোন ইউনিটে দুর্বলতা রয়েছে। দলের অসঙ্গতিগুলো খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এটার রিপোর্ট আমরা দু’একদিনের মধ্যেই পেয়ে যাবো। দেশে আওয়ামী লীগ একমাত্র রাজনৈতিক দল যেখানে দলের মধ্যেও গণতন্ত্রের চর্চা হয়। অন্য কোনো রাজনৈতিক দলে কিন্তু সেই চর্চাটা নেই।

সদ্য অনুমোদন পাওয়া বিভিন্ন কমিটিগুলোতে শুদ্ধি অভিযানের প্রভাব রয়েছে। অর্থাৎ ত্যাগী এবং স্বচ্ছ ভাবমুর্তির অধিকারী ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। এতে কি ধরণের গুণগত পরিবর্তন হয়েছে বলে মনে করেন?

বিএম মোজাম্মেল: অবশ্যই গুণগত পরিবর্তন হচ্ছে। একজন শিক্ষার্থী যদি লেখাপড়ায় মনযোগী হয়, তাহলে সে ভালো ফল করতে পারবে। তেমনি একজন রাজনৈতিককর্মী যদি সেই দলের নীতি আদর্শকে হৃদয়ের গভীর থেকে ভালোবেসে রাজনীতি করে, আপসহীন থাকে তাহলে সেই রাজনৈতিক সংগঠন শক্তিশালী হবে। হাইব্রিড বা অনুপ্রবেশকারী যাই বলি না কেন, তারা কখনো নীতি আদর্শ নিয়ে রাজনীতি করে না।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএম

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত