ঢাকা, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ আপডেট : ৪ মিনিট আগে
শিরোনাম

হামে শিশু মৃত্যু: ইউনূসসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন খারিজ

  জার্নাল ডেস্ক

প্রকাশ : ০৮ জুন ২০২৬, ১৪:২২

হামে শিশু মৃত্যু: ইউনূসসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন খারিজ
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস - ফাইল ছবি

হামে শিশুদের ‘অবহেলাজনিত মৃত্যুর’ অভিযোগে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস এবং তার স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূর জাহান বেগমসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলার একটি আবেদন খারিজ করে দিয়েছে আদালত।

কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান ইকবাল সোমবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার ওই আবেদন করেছিলেন।

বাদীর আর্জি শুনে বিচারক জশিতা ইসলাম ‘মামলা গ্রহণ করার উপাদান না থাকার’ কারণ দেখিয়ে আবেদনটি খারিজ করে দেন বলে বাদীপক্ষের আইনজীবী সালাউদ্দিন লস্কর জানান।

ইউনূস ও নূর জাহান ছাড়াও স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মো. সাইদুর রহমান, সাবেক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ সায়েদুর রহমান এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফরকে এ মামলায় আসামি করার আর্জি জানানো হয়।

মামলার আর্জিতে বলা হয়, বাংলাদেশে শিশু জন্মের পর সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে সরকারিভাবে হাম ও রুবেলার টিকা নিয়মিত ও বাধ্যতামূলকভাবে দেওয়া হয়। বিভিন্ন সংক্রামক রোগের টিকাসহ রুবেলা ভ্যাকসিন শুরু থেকেই বাংলাদেশ ইউনিসেফ থেকে আমদানি করে।

মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার হাম/রুবেলার টিকা আমদানি বন্ধ করে দেয়। পরে ওপেন টেন্ডার বা উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়ায় টিকা আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও দীর্ঘ দেড় বছর সময়ক্ষেপণ করা হয়, যার ফলে দেশে টিকার তীব্র সংকট দেখা দেয়।

বাদীর অভিযোগ ছিল, “হামের টিকা না পেয়ে কোমলমতি শিশুদের জীবন হুমকির মুখে পড়ে, যা শুভঙ্করের ফাঁকি ও বাংলাদেশের মানুষের সাথে চরম প্রতারণা ছাড়া আর কিছু না। আসামিরা হাম/রুবেলার টিকা আমদানি বন্ধ করে লাখ লাখ শিশুর জীবন হুমকির মধ্যে ফেলে।”

মামলার আর্জিতে বলা হয়, ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স (যিনি মামলার ২ নম্বর সাক্ষী) গত ২০ মে গণমাধ্যমে জানান, হাম-রুবেলা টিকার সম্ভাব্য সংকটের বিষয়ে তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগকে ১ থেকে ৫ নম্বর আসামির দপ্তরের ৫/৬টি চিঠির মাধ্যমে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল। সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে আমদানি প্রক্রিয়া বন্ধ না করার অনুরোধও জানানো হয়েছিল।

“কিন্তু আসামিরা ক্ষমতার অপব্যবহার ও চরম অবহেলা প্রদর্শন করে সেই সতর্কবার্তায় কর্ণপাত করেনি। টিকা না পাওয়ার কারণে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব মহামারী আকার ধারণ করে।”

সরকারি হিসাবে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত প্রায় আশি হাজার শিশু হামের লক্ষণ নিয়ে বা হামে আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেছে। এই সময়ে ছয় শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

মামলার আর্জিতে বলা হয়, “আসামিদের দায়িত্বের চরম অবহেলায়, কু-উদ্দেশ্য ও দুর্নীতিপরায়ণ মনোভাবের কারণে শিশুদের টিকা না দেওয়ার ফলে হামের প্রার্দুভাব হয় এবং মহামারী আকারে দেখা দেয়। এ ঘটনায় আসামিরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দোষী। তারা জাতির সাথে প্রতারণা ও বিশ্বাস ভঙ্গ করেছে।”

বাদী মজিবুর রহমান ইকবাল বলছেন, তিনি রাজধানীর বনানী থানায় এ মামলা করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু আসামিরা ‘অত্যন্ত প্রভাবশালী ও ভিআইপি ব্যক্তি’ হওয়ায় থানা কর্তৃপক্ষ মামলা না নিয়ে আদালত আসার পরামর্শ দেয়।

অভিযোগ আমলে নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করা হয়েছিল মামলার আর্জিতে।

বাংলাদেশ জার্নাল/জে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত