দিল্লিতে বিজিবি-বিএসএফ বৈঠকে অগ্রাধিকার পাবে পুশ-ইন ও সীমান্ত হত্যা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
জার্নাল ডেস্ক
প্রকাশ : ০৭ জুন ২০২৬, ১৯:০১

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) মহাপরিচালক পর্যায়ের সম্মেলনে অবৈধ পুশ-ইন, সীমান্ত হত্যা এবং সামগ্রিক সীমান্ত নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
রোববার (৭ জুন) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি। চার দিনব্যাপী এই সম্মেলন ৮ জুন নয়াদিল্লিতে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ সীমান্তে অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। অবৈধ পুশ-ইনের যেকোনো চেষ্টা প্রতিহত করা হবে।
তিনি বলেন, অপরাধ ও মাদক নিয়ন্ত্রণে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে কৌশলগত কারণে বিশেষ অভিযানের তথ্য আগাম প্রকাশ করা হয় না।
সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, বিদ্যমান আইনের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে যাতে অপরাধীরা পার পেয়ে যেতে না পারে, সে লক্ষ্যে সরকার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ও জুয়া প্রতিরোধে আধুনিক ও যুগোপযোগী আইন প্রণয়নের কাজ করছে। এসব সংস্কার কার্যকর হলে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।
পুলিশ সদস্যদের ভালো কাজের স্বীকৃতি দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পুলিশের ভালো কাজের মূল্যায়ন করা হবে। একইসঙ্গে কোনো সদস্যের নিষ্ক্রিয়তা বা অপরাধে জড়িত থাকার বিষয়েও ছাড় দেওয়া হবে না।
সাম্প্রতিক কয়েকটি আলোচিত মামলার তদন্ত ও আসামি গ্রেপ্তারে পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলাসহ একাধিক জটিল মামলায় পুলিশ দ্রুত ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করেছে।
রামিসা হত্যা মামলার রায়কে দেশের বিচারিক ও তদন্ত ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘মাইলফলক’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, খুব অল্প সময়ে ডিএনএ পরীক্ষা, ময়নাতদন্ত এবং চার্জশিট দাখিলের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এমনকি আদালতের বিচারক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঈদের ছুটি বাতিল করে বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করেছেন। এটি রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক দায়বদ্ধতার একটি অনন্য উদাহরণ।
তিনি আরও বলেন, মামলার ডেথ রেফারেন্স শুনানি আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট ও অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ঘাটে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের আন্তরিকতা ও বিচক্ষণতার কারণে অন্তত ৫০ জন বাসযাত্রীর প্রাণ রক্ষা পেয়েছে।
এছাড়া মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় এক কিশোরী হত্যার ক্লুলেস মামলার রহস্য দ্রুত উদঘাটন এবং আসামিদের গ্রেপ্তার করতেও পুলিশ সফল হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশ জার্নাল/সিএম










