ঢাকা, রোববার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ আপডেট : ৫ মিনিট আগে
শিরোনাম

ব্যাংকিং খাতের সংস্কার সরকার করবেই: তথ্যমন্ত্রী

  জার্নাল ডেস্ক

প্রকাশ : ০৭ জুন ২০২৬, ১৭:০১

ব্যাংকিং খাতের সংস্কার সরকার করবেই: তথ্যমন্ত্রী

ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে সুরক্ষিত করতে সরকার সংস্কারের পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন, বিভিন্ন খাতে সংস্কারের জন্য যেভাবে কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, একইভাবে ব্যাংকিং খাতের সংস্কার বাইরে থাকবে না। ব্যাংকিং ব্যবস্থার মেরামত, সংস্কার ও সুরক্ষার বিষয়টি সরকারের চিন্তায় রয়েছে। ব্যাংকিং খাত অর্থনীতির রক্ত প্রবাহের উৎস। এটিকে সংস্কার ও মেরামত ছাড়া টেকসই অর্থনৈতিক অগ্রগতি সম্ভব নয়। আমরা যদি গণমাধ্যম সংস্কার, দুর্নীতি দমনের ক্ষেত্রে কমিশন এবং প্রশাসন সংস্কারের কথা বলতে পারি; তাহলে ব্যাংকিং খাতের মতো এরকম গুরুত্বপূর্ণ খাত কেন সংস্কার করব না! আমরা এটা করবই।

রোববার (৭ জুন) ঢাকার পল্টনে ‘ব্যাংক খাতে সুশাসন ও গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তব্য দিচ্ছিলেন তথ্যমন্ত্রী স্বপন। অর্থনীতি বিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ইউনিটি (ইআরএফ) নিজেদের কার্যালয়ে এ অনুষ্ঠান আয়োজন করে।

অতীতে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় ব্যাংকিং খাতে অনিয়ম ও অপরাধ সংঘটিত হয়েছে অভিযোগ করে মন্ত্রী বলেন, ব্যাংকিং খাতে প্রকৃত পরিবর্তন আনতে হলে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় অনিয়মের সুযোগ বন্ধ করতে হবে। দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামোয় সুশাসনের যে ঘাটতি রয়েছে, ব্যাংকিং খাতেও তার প্রতিফলন দেখা যায়।

ব্যাংক দখলকারীরাই পুঁজিবাজারের ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের নিশানা করে থাকে বলে মনে করেন জহির উদ্দিন স্বপন।

তিনি বলেন, খেলাপি ঋণের চিত্রই বলে দেয়—কারা প্রকৃত উদ্যোক্তা, আর কারা প্রতারক। দেশের অর্থনীতির রক্তপ্রবাহ হিসেবে ব্যাংক খাতকে সুশাসনের আওতায় আনার পাশাপাশি শেয়ারবাজারকেও শক্তিশালী করতে হবে।

অতীতে কোনো ‘অদৃশ্য শক্তির’ কারণে আর্থিক অপরাধ হয়নি মন্তব্য করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও ব্যবস্থার ভেতরেই এসব দুর্বলতা নিহিত ছিল। সঠিক জবাবদিহিতা না থাকলে তথ্য, পরিসংখ্যান কিংবা আর্থিক প্রতিবেদন সহজেই বিকৃত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

২০২৪ সাল থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের চতুর্থ তলায় সাংবাদিক প্রবেশে ‘নিষেধাজ্ঞা’ দেওয়া হয়, তা এখনো তুলে নেওয়া হয়নি।

এ প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী স্বপন বলেন, গুরুত্বপূর্ণ হলো তথ্যের অবাধ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা। যেখানে তথ্য থাকবে, সেখানেই সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার থাকা উচিত।

দেশের ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় অর্থনৈতিক সাংবাদিকদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করে তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির নানা তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরার ক্ষেত্রে গণমাধ্যমই কার্যত একমাত্র কার্যকর পাহাদারের ভূমিকা পালন করছে। মানুষ ব্যাংকিং খাতের নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও বাস্তব চিত্র সম্পর্কে যতটুকু জেনেছে, তার বড় অংশই আপনাদের মাধ্যমে জেনেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নুরুন নাহার বলেন, ব্যাংকিং খাতের বর্তমান দুর্বল ও ভঙ্গুর অবস্থার জন্য সুশাসনে ঘাটতি রয়েছে। জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, দায়িত্বশীলতা ও ন্যায্যতা— সুশাসনের এই চারটি ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ায় ব্যাংক খাতে নানা সংকট তৈরি হয়েছে।

ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মামদুদুর রশীদ বলেন, গত কয়েক দশকে এ খাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ ও উদ্বেগের মুখোমুখি হয়েছে। অন্যান্য অনেক ব্যাংকের মতো ইউসিবিও বর্তমানে আর্থিক চাপের মধ্যে রয়েছে। এই চাপের প্রধান কারণ হলো সুশাসনের অভাব।

ইআরএফ সভাপতি দৌলত আকতার মালার সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন বিআইবিএম’র মহাপরিচালক এজাজুল ইসলাম।

বাংলাদেশ জার্নাল/সিএম

  • সর্বশেষ
  • পঠিত