ঢাকা, রোববার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ আপডেট : ৫ মিনিট আগে
শিরোনাম

মন্ত্রণালয়ের কাজ খতিয়ে দেখছেন প্রধানমন্ত্রী, চাঁদাবাজদের ছাড় নয়

  জার্নাল ডেস্ক

প্রকাশ : ০৭ জুন ২০২৬, ০৭:২৪

মন্ত্রণালয়ের কাজ খতিয়ে দেখছেন প্রধানমন্ত্রী, চাঁদাবাজদের ছাড় নয়
ছবি: সংগৃহীত

বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের অগ্রগতি প্রধানমন্ত্রী আলাদাভাবে পর্যালোচনা করছেন বলে তুলে ধরেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম।

শনিবার সরকারি দল বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠকে এমন আলোচনা হওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, আইন ও স্বরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

আসন্ন ২০২৬-২৭ বাজেট অধিবেশন সামনে রেখে সংসদ ভবনে সরকারি দলের সভাকক্ষে বিএনপির সংসদীয় দলের সভা হয়। পরে এলডি হলে ব্রিফিংয়ে আসেন চিফ হুইপ।

বৈঠকে দেশে চাঁদাবাজি, মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর কথা বলেছেন স্বরাষ্টমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য তুলে ধরে চিফ হুইপ বলেন, “দলের লোক হলেও কোনো মাফ হবে না।

“দেশে চাঁদাবাজদের কোনো জায়গা হবে না, মাদকেরও কোনো জায়গা হবে না।”

রোববার সংসদে বাজেট অধিবেশন শুরু হচ্ছে। আগামী ১১ জুন বাজেট উপস্থাপন করা হবে। ১৬ জুন থেকে মূল বাজেটের ওপর আলোচনা শুরু হবে।

নূরুল ইসলাম বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সকল মন্ত্রীদের নিয়ে আলাদাভাবে বসেছেন। সকল মন্ত্রণালয়ে ছোটখাটো ত্রুটি বিচ্যুতি থাকতে পারে। আমরা চেষ্টা করছি যাতে ত্রুটি বিচ্যুতি না থাকে।”

কোনো মন্ত্রণালয়ের কাজে সরকারপ্রধান অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন কি না, এমন প্রশ্নে তিনি নির্দিষ্ট কোনো মন্ত্রণালয়ের নাম বলেননি।

‘শিক্ষাক্রমের ক্রুটি সংশোধন হবে’

চিফ হুইপ বলেন, শিক্ষাক্রমের বিভিন্ন ত্রুটি সংশোধন এবং শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

স্বাস্থ্য খাতে ডেঙ্গু ও করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবিলার পাশাপাশি হাসপাতাল অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে তুলে ধরেন তিনি।

তিনি বলেন, কয়েকটি বড় হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে অন্তত একটি হাসপাতাল শুধু নারীদের জন্য করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

“আর যদি দুটি করা যায়, তাতেও কোনো অসুবিধা নেই। মেয়ে ও শিশুদের জন্য সেভাবেই কার্যক্রম চলছে।”

তবে হাসপাতালগুলো কোথায় হবে, কত শয্যার হবে বা বাস্তবায়নের সময়সীমা কী, সে বিষয়ে বিস্তারিত বলেননি তিনি।

সড়ক, সেতু এবং ঢাকা-সিলেটসহ বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের অনেক কর্মসূচির কাজ দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম ১০০ দিনের মধ্যেই শুরু হয়েছে।

‘খরা সংকট কাটাবে দুই ব্যারেজ’

পদ্মা ব্যারেজ ও তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্প নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হওয়ার কথা তুলে ধরে নূরুল ইসলাম বলেন, এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে খরা ও পানির সংকট মোকাবিলায় বড় পরিবর্তন আসবে।

“দুটো জিনিস হবে। একটা হল হাইড্রো পাওয়ার হবে। আর দুই হল এই পানি দিয়ে সমগ্র বাংলাদেশে চাষাবাদের কার্যক্রম হবে।”

তিনি বলেন, “এটা বিশাল পরিবর্তন হবে বাংলাদেশের ইতিহাসে। এটা অন্যতম বড় প্রজেক্ট।”

বৈঠকে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর কারণ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “৬৬ শতাংশ মানুষের বিদ্যুতের কোনো দামই বাড়েনি।”

ডলার, কয়লা, এলএনজি, তেল এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন সরঞ্জাম আমদানির ব্যয় বেড়ে যাওয়ার বৃদ্ধির কারণে মূল্য সমন্বয় করতে হয়েছে বলে তিনি ব্যাখ্যা দেন।

“আমরা দাম বাড়ালাম, মানুষ অখুশি হলো, আমাদের কী লাভ হবে?”

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সরকারকে প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে।

তবে এ হিসাবের বিস্তারিত ব্যাখ্যা তিনি দেননি।

‘৩০ লাখ কোটি টাকার ঘাটতি’

সরকার ৩০ লাখ কোটি টাকার ঘাটতি নিয়ে কাজ শুরু করেছে বলে দাবি করেন চিফ হুইপ।

এক সাংবাদিকের এ বিষয়ক প্রশ্নে তিনি বলেন, “ঘাটতি মানে কী এটা তো আপনার সহজেই বোঝার কথা। এই যে ৩০ লাখ কোটি চুরি নিয়ে আমরা বসছি।”

ব্যাংক খাতের সংকটের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহকরা ব্যাংক থেকে নিজের টাকাও তুলতে পারছেন না।

পিরোজপুরের একটি প্রকল্পের উদাহরণ দিয়ে তিনি দাবি করেন, সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হলেও সেখানে একটি ইটও বসানো হয়নি।

‘দ্রুত বিচার নিশ্চিতের চেষ্টা চলছে’

আইন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম নিয়ে চিফ হুইপ বলেন, শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলাসহ আলোচিত কয়েকটি ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

রাজধানীর পল্লবীর আলোচিত রামিসা হত্যা মামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “স্বল্পতম সময়ের মধ্যে যে বিচার হবে, সেটা হল রামিসা হত্যার বিচার।“

তনু হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার এবং ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তির কথাও তুলে ধরেন তিনি।

ফেইসবুক-ইউটিউব নিয়ে উদ্বেগ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য, ব্যক্তিগত চরিত্রহনন এবং ‘সামাজিক বিচার’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন চিফ হুইপ।

তিনি বলেন, “বাক স্বাধীনতার অর্থ হল যে স্বাধীনতাকে অপব্যবহার করা এবং মানুষের চরিত্র ধ্বংস করা নয়।”

এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, “আপনারা এগিয়ে আসেন। দেশকে বাঁচাতে হলে এর কোনো বিকল্প নেই।”

এমপিদের মাঠে থাকার নির্দেশ

চিফ হুইপ বলেন, প্রধানমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের নিজ এলাকায় সরকারি কর্মসূচির বাস্তবায়ন তদারকির নির্দেশ দিয়েছেন।

স্কুলে শিক্ষক উপস্থিতি, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, হাসপাতালের সেবার মান এবং সরকারি প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের কথা বলা হয়েছে।

“সরকার চায় আন্তরিকভাবে। কিন্তু কাজ যদি না হয় তাহলেতো লাভ হবে না।”

সংবিধান সংস্কার নয়, সংশোধন

সংবিধান বিষয়ক এক প্রশ্নে নূরুল ইসলাম বলেন, এখন সংস্কারের নয়, সংশোধনের সময়।

“সংবিধান সংশোধনের বিকল্প আপাতত কিছু নাই। হয় সংবিধান ফেলে দিয়ে লিখতে হবে, একবার নতুন করে আনতে হবে, না হলে সংশোধন করতে হবে। মাঝখানে কিছুই নেই।”

তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধনের জন্য একটি কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সব রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র সদস্যদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার চেষ্টা করার কথাও বলেন তিনি।

“আমাদের মেজরিটি আছে, আমরা ইচ্ছে করলে করতে পারি। কিন্তু আমরা করব না।”

চিফ হুইপ বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিরোধী দলও একই লক্ষ্য নিয়ে কথা বলছে। পার্থক্য শুধু বাস্তবায়নের পদ্ধতিতে।

মন্ত্রীর পদত্যাগে ‘অন্য কারণ’ থাকলে জানবেন

বিরোধী দলের সংরক্ষিত নারী সদস্যদের বাসা বরাদ্দ না পাওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, “যদি কেউ বাড়ি না পেয়ে থাকে, তাহলে আমরা বাড়ি দেব।”

তার দাবি, “আমি চিফ হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে কথা বলছি। সকলকে বাড়ি দেওয়া হয়েছে।”

মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের বিষয়ে তিনি বলেন, ``সংসদীয় ব্যবস্থায় যেকোন সময় মন্ত্রী পদত্যাগ করতে পারেন।

তিনি বলছেন স্বাস্থ্যগত কারণে পদত্যাগ করেছেন। অন্য কোনো কারণ যদি থাকে, নিশ্চয়ই আমরা আপনাদের জানাব।”

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএম

  • সর্বশেষ
  • পঠিত