হ্যাটট্রিক স্বপ্ন ভাঙল, সাফের মুকুট ফের ভারতের
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ জুন ২০২৬, ২১:০১ আপডেট : ০৬ জুন ২০২৬, ২১:১৫

সব মলিনতা, জড়তা ঝেড়ে ফাইনালে উজ্জীবিত ফুটবলের পসরা মেললেন ঋতুপর্ণা-মারিয়ারা। পিছিয়ে পড়ার পর, দ্রুত ঘুরে দাঁড়াল তারা। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে হজম করা গোলটি ফিরিয়ে দেওয়ার প্রাণান্ত চেষ্টায় সফল হলো না বাংলাদেশ। উল্টো শেষ দিকে আফঈদা খন্দকারের ভুলে ব্যবধান বাড়ল আরও। বাংলাদেশের হ্যাটট্রিক শিরোপা স্বপ্ন গুঁড়িয়ে চ্যাম্পিয়ন হলো ভারত।
গোয়ার জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে শনিবার উইমেন’স সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ৩-১ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। ২০১৯ সালের পর দক্ষিণ এশিয়ান নারী ফুটবলের সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতার শিরোপা পুনরুদ্ধার করল ভারত।
চলতি আসরে গ্রুপ পর্বের দেখায় ভারতের বিপক্ষে ৩-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে তারা খেলেছিল ছন্নছাড়া ফুটবল। কিন্তু এবার ছন্দময়, গোছাল ফুটবল খেলেও পেরে উঠল না ঋতুপর্ণারা।
দুটি পরিবর্তন এনে একাদশ সাজান বাটলার। উমহেলা মারমা ও সুরভি আকন্দ প্রীতির বদলে নামান তহুরা খাতুন ও শামসুন্নাহার জুনিয়রকে। গত সাফে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ গোলদাতা তহুরা চলতি আসরে এই প্রথম সুযোগ পান শুরু থেকে খেলার।
শুরুর ১০ মিনিটে বল নিয়ন্ত্রণে কিছুটা এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ। বাম উইং ধরে ঋতুপর্ণা বক্সে বেশ কয়েকবার বল বাড়ালেও গোলরক্ষককে পরীক্ষায় ফেলার মতো কিছু করতে পারেননি কেউ। দ্বাদশ মিনিটে দারুণ সুযোগ আসে তাদের সামনে। তহুরার ছোট পাস ধরে ঋতুপর্ণা আড়াআড়ি ক্রসে গোলমুখে শামসুন্নাহার জুনিয়র প্রয়োজনীয় টোকা দিতে পারেননি।
একটু পর শামসুন্নাহারের পাস ধরে গোলরক্ষককে একা পান তহুরা; কিন্তু গায়ের সঙ্গে সেঁটে থাকা সিল্কি দেবির বাধা এড়াতে পারেননি পুরোপুরি। তার নিচু দুর্বল শট সিল্কি দ্রুত পা চালিয়ে কর্নার করে দেন।
২৮তম মিনিটে আভীকা সিংয়ের হেড দুর্ভাবনার কারণ হয়নি মিলির জন্য। একটু পর একটি বাচ্চা কুকুর ঢুকে পড়ে মাঠে। মাঝমাঠে গিয়ে গড়াগড়ি দিতে থাকে। বাংলাদেশে অধিনায়ক মারিয়া আরেক অফিসিয়ালের সহযোগিতায় কুকুরটি বের করে দিলে খেলা ফের শুরু হয়।
মনিষা কল্যাণের ৩৮তম মিনিটের কোনাকুনি শট ঝাঁপিয়ে আটকে দেন মিলি। কিছুক্ষণ পর পাল্টা আক্রমণে এগিয়ে যায় ভারত। পিয়ারি সাসার পাহারায় ছিলেন সুরভি আকন্দ আরফিন। কিন্তু সাসার শট তার পায়ে লেগেই মিলির মাথার ওপর দিয়ে জালে জড়ায়।
খানিক পর বক্সের বেশ বাইরে আনিকার জোরাল শট ঝাঁপিয়ে কর্নার করে দেন চানু। কিন্তু ৪৫তম মিনিটে আর পারেননি তিনি। মাঝমাঠের একটু ওপরে প্রতিপক্ষের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে আনিকা বাড়ান তহুরাকে। চলন্ত বলে পা ছুঁয়ে তিনি এগিয়ে দেন ঋতুপর্ণাকে। ডি-বক্সে ঢুকে নিখুঁত প্লেসিং শটে তিনি ঠিকানা খুঁজে নেন। স্বস্তি নিয়ে বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ফের এগিয়ে যায় ভারত। ডান দিক থেকে আসা ক্রসে সানফিদা ননগ্রুমে হেডে পরাস্ত হন মিলি।
৫১তম মিনিটে ঋতুপর্ণার কর্নারে শামসুন্নাহার জুনিয়রের হেড অল্পের জন্য ক্রসবারের উপর দিয়ে যায়। চার মিনিট পর বাম দিক থেকে মারিয়ার শট লাফিয়ে আটকান চানু।
একটু পর প্রতিপক্ষের ট্যাকলে বক্সে পড়ে যান আনিকা। মাঠের বাইরে গিয়ে কিছুক্ষণ চিকিৎসা নেওয়া সুইডেন প্রবাসী ফরোয়ার্ড খেলা চালিয়ে যেতে পারেননি। তার বদলি নামেন মানিকা চাকমা।
বাংলাদেশের বিপদ বাড়তে পারত ৬৫তম মিনিটে। সানফিদার পাসে বক্সে বল পেয়ে যান মনিষা, তবে পেরু লিগে খেলা এই ফরোয়ার্ডের সাইড ভলি অল্পের জন্য যায় বাইরে।
৭২তম মিনিটে তহুরার বদলি নামেন সাগরিকা।
ম্যাচ জুড়ে দারুণ খেলা আফঈদা তালগোল পাকিয়ে বসলেন ৮২তম মিনিটে। বল ক্লিয়ার করার ডানে-বামে অনেক বিকল্পই ছিল তার সামনে, কিন্তু তিনি নেন জোরাল শট, বল মালভিকার পায়ে লেগে চলে যায় লিন্ডা কম ছেত্রোর কাছে। অনায়াসে জাল খুঁজে নেন তিনি। বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে যায় আরও।
শেষ দিকে প্রতিপক্ষের একটি প্রচেষ্টা গোললাইন থেকে হেডে ক্লিয়ার করেন কোহাতি কিসকু। তাতে স্রেফ ব্যবধান বাড়েনি ভারতের। আগে থেকেই প্রতিযোগিতার রেকর্ড শিরোপাধারী ছিল তারা, এবার সংখ্যাটা দাঁড়ায় ৬-এ।
বাংলাদেশ জার্নাল/এনএম










