ঢাকা, রোববার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ আপডেট : ২ মিনিট আগে
শিরোনাম

দেশে গত পাঁচ মাসে খুন-অপহরণসহ অপরাধ বেড়েছে: বিসিআরএস

  জার্নাল ডেস্ক

প্রকাশ : ০৭ জুন ২০২৬, ১৮:৪৪

দেশে গত পাঁচ মাসে খুন-অপহরণসহ অপরাধ বেড়েছে: বিসিআরএস

মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তবর্তী সরকারের বিদায় ও বিএনপি সরকারের শুরু থেকে চলতি বছরের গত পাঁচ মাসে দেশে খুন, অপহরণ, ছিনতাই, ডাকাতি এবং নারী-শিশু নির্যাতনের ঘটনা বাড়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সিভিল রাইটস সোসাইটি (বিসিআরএস)।

রোববার (৭ জুন) এক বিবৃতিতে বিসিআরএসের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন এবং নির্বাহী পরিচালক শেখ মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শেষ সময় ও বিএনপি সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধের চিত্র বিশ্লেষণ করলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বেশ কিছু উদ্বেগজনক দিক স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

সংগঠনটির প্রতিবেদনে বলা হয়, গত জানুয়ারি থেকে এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত দেশে ১ হাজার ১৪২টি খুন হয়েছে। একই সময়ে ৩৪৭টি অপহরণ, ১৮৪টি ছিনতাই এবং ৫৯১টি ডাকাতির ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা ছিল ৫ হাজার ৯৯৮টি।

জানুয়ারি থেকে ২০ মে পর্যন্ত অন্তত ১১৮ জন শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে, যা সমাজের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয় বলে মনে করছে বিসিআরএস।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা, মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধ, চাঁদাবাজি, দখলবাজি এবং সংঘবদ্ধ অপরাধের প্রবণতাও বাড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করে সংগঠনটি বলছে, এসব কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে শহরাঞ্চলের পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকাতেও অপরাধের বিস্তার ঘটছে।

বিসিআরএসের বিবৃতিতে বলা হয়, বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক, অনলাইন সংবাদমাধ্যম এবং মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহের ভিত্তিতে এ পরিসংখ্যান প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রকৃত অপরাধের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে, কারণ অনেক ঘটনা সামাজিক, পারিবারিক কিংবা প্রশাসনিক কারণে প্রকাশ্যে আসে না অথবা থানায় অভিযোগ হিসেবে নথিভুক্ত হয় না।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই ভারত থেকে বাংলাদেশে বিভিন্ন ব্যক্তিকে পুশইনের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হচ্ছে। এ ধরনের ঘটনায় সীমান্ত নিরাপত্তা, মানবাধিকার এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

বিসিআরএস মনে করে, সীমান্তে যে কোনো ধরনের অনিয়মিত অনুপ্রবেশ বা জোরপূর্বক পুশইনের ঘটনা আন্তর্জাতিক আইন এবং মানবাধিকারের প্রশ্নের সঙ্গে সম্পর্কিত। এ বিষয়ে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে কার্যকর কূটনৈতিক যোগাযোগ ও সমন্বয় প্রয়োজন।

বাংলাদেশ জার্নাল/সিএম

  • সর্বশেষ
  • পঠিত