ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০, ১২ কার্তিক ১৪২৭ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে English

প্রকাশ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৯:৩২

প্রিন্ট

ঢাকা-১৮ উপনির্বাচন

তদন্ত রিপোর্ট দেখে প্রার্থী ঘোষণা বিএনপির

তদন্ত রিপোর্ট দেখে প্রার্থী ঘোষণা বিএনপির
কিরণ শেখ

আসন্ন ঢাকা-৫ ও নওগাঁ-৬ আসনের উপনির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী ঘোষণা করলেও সংঘর্ষের কারণে ওই সময় ঢাকা-১৮ এবং সিরাজগঞ্জ-১ আসনের প্রার্থী ঘোষণা করেনি বিএনপি। ওই ঘটনায় বিএনপি সোমবার কিংবা মঙ্গলবার একটি তদন্ত কমিটি গঠন করবে।

তদন্তের রিপোর্টে যে ব্যক্তি এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকবেন তার বিরুদ্ধে দল থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। এমনকি তাকে দল থেকে বহিস্কারও করা হতে পারে। এরপরই ঢাকা-১৮ আসনের প্রার্থী ঘোষণা করার কথা ভাবছে দলটি।

ঢাকা-১৮ আসনের ধানের শীষের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

তবে গত ১৯ সেপ্টেম্বর বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় যে, তফসিল ঘোষণার পর ঢাকা-১৮ এবং সিরাজগঞ্জ-১ আসনের উপ-নির্বাচনের প্রার্থী ঘোষণা করা হবে।

এদিকে আজ ঢাকা-১৮ ও সিরাজগঞ্জ-১ আসনের উপনির্বাচনে তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। এই দুই আসনে উপনির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ নভেম্বর।

সোমবার নির্বাচন কমিশনের সভা শেষে ইসি সচিব মো. আলমগীর বলেন, এই দুই নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহীরা ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত মনোনয়ন দাখিল করতে পারবেন। ১৫ অক্টোবর বাছাই শেষে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ থাকবে। ১২ নভেম্বর ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) এই দুই আসনে ভোট হবে।

বিএনপির প্রার্থী ঘোষণার বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ধানের শীষের একজন মনোনয়নপ্রত্যাশী বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, সাক্ষাতকারের সময় বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যারলয়ে ঢাকা-১৮ আসনের মনোনয়নপ্রাত্যাশীদের মধ্যে যে সংঘর্ষ হয়েছে তার তদন্ত শেষে প্রার্থী ঘোষণা করা হবে। আর এই ঘটনায় আজ (সোমবার) কিংবা মঙ্গলবার একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।

এবিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেকজন মনোনয়নপ্রত্যাশী বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, আগামী ১৩ অক্টোবর মনোনয়ন দাখিলের সময় প্রার্থী ঘোষণা করা হতে পারে। আবার ২২ অক্টোবর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পরও চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করারও সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে গত ১২ সেপ্টেম্বর দলের চেয়ারপারসনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে চার শূন্য আসনের উপনির্বাচনে প্রার্থী চূড়ান্ত করতে দলটির মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রার্থীদের ভার্চুয়াল সাক্ষাৎকার নিয়েছে বিএনপি। এসময় ঢাকা-১৮ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা যখন সাক্ষাৎকারে তখন তাদের সমর্থকরা সংঘর্ষ ও মারামারিতে লিপ্ত হয়। এই আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন এবং কফিল উদ্দিনের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন এবং একজন কর্মীর মাথা ফেটে গেছে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৮ আসনে বিএনপি দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীদের চিঠি পেয়েছিলেন জাতীয়তাবাদী যুবদলের মহানগর উত্তরের সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর আলম ও বিএনপি ব্যবসায়ী নেতা বাহাউদ্দিন সাদী। যদিও পরে আসনটি শরিকদেরকে ছেড়ে দেয় বিএনপি। ওই নির্বাচনে ঢাকা-১৮ আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন ভোট করেন। কিন্তু এবার ঢাকা-১৮ আসনে দলীয় প্রার্থী দেবে বিএনপি।

এবার উপনির্বাচনে এই আসন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন- ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, এম কফিল উদ্দিন আহম্মদ, বাহাউদ্দিন সাদি, আক্তার হোসেন, আব্বাস উদ্দিন, ইসমাঈল হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান ও মোস্তফা জামান। তারা এই আসনে মনোনয়নের জন্য সাক্ষাৎকার দিয়েছেন।

তবে বিএনপির স্থানীয় নেতারা নির্বাচনে বাহাউদ্দিন সাদীকে এগিয়ে রাখছেন। তারা বলেছেন, বাহাউদ্দিন সাদী বিএনপির একজন পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতা। আর সুখ-দুঃখে বাহাউদ্দিন সাদীকে সব সময় এলাকার জনগণ ও দলীয় নেতাকর্মীরা পাশে পান। তাই যদি এই আসন থেকে বাহাউদ্দিন সাদীকে মনোনয়ন দেয়া হয় তাহলে তিনিই একমাত্র প্রার্থী যিনি ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সঙ্গে লড়াই করে বিজয় ছিনিয়ে আনতে পারেন।

মনোনয়নের বিষয়ে জানতে চাইলে বাহাউদ্দিন সাদী বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়টা আমি প্রতিদ্বন্দ্বিতার জায়গা থেকে না দেখে দল ও দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আমার দায়িত্বের জায়গা থেকে দেখি। আমি ঠিকভাবে কাজ করছি কি না সেটাই দেখি। আর মনোনয়নের সিদ্ধান্ত যাই হোক, দল এবং নেতা-কর্মীদের প্রতি আমার দায়িত্ব আমি অব্যাহত রাখব।

অন্যদিকে সিরাজগঞ্জ-১ আসনে টি এম তাহজিবুল ইসলাম, নাজমুল হাসান তালুকদার, রবিউল হাসান ও সেলিম রেজা সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। তবে গতবারের প্রার্থী কণ্ঠশিল্পী কনক চাঁপা এবার মনোনয়ন চাইলেও সাক্ষাৎকার দেননি। কিন্তু কনক চাঁপা সাক্ষাৎকার না দিলেও তিনি নির্বাচন করতে চাইলে এই আসন থেকে তাকেই মনোনয়ন দেবে বিএনপি।

তবে কনক চাঁপা নির্বাচন করতে না চাইলে সেক্ষেত্রে নাজমুল হাসান তালুকদারের মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে জানা গেছে।

প্রসঙ্গত, আওয়ামী লীগের মোহাম্মদ নাসিমের মৃত্যুতে সিরাজগঞ্জ-১ এবং সাহারা খাতুনের মৃত্যুতে ঢাকা-১৮ আসন শূন্য হয়।

ঢাকার দুই আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীর সমর্থকদের মারামারি

মেয়াদ শেষ হলেও হয়নি পূর্ণাঙ্গ কমিটি

বাংলাদেশ জার্নাল/কেএস/আরকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত