ঢাকা, রোববার, ০৭ মার্চ ২০২১, ২২ ফাল্গুন ১৪২৭ আপডেট : ৩ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৮ জানুয়ারি ২০২১, ১০:০০

প্রিন্ট

দোয়া মাহফিলের নামে ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে কারা?

দোয়া মাহফিলের নামে ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে কারা?
সৈয়দ ইবরাহিমের রহস্যঘেরা সভা। ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক

সম্প্রতি রাজধানী ঢাকার একটি অভিজাত রেস্তোরাঁয় দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। সেখানে দোয়া অনুষ্ঠানের কথা থাকলেও পুরো সময়জুড়ে করা হয়েছে সরকারের বিরুদ্ধে আলোচনা। কীভাবে বর্তমান সরকারকে সরিয়ে ফেলা যায়, আলোচনার মূল বিষয় ছিল সেটাই। সভায় সাবেক সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা, আমলাসহ অংশ নেন জামায়াত-বিএনপির নেতাকর্মীরা। তবে, অনেকেই এই সভাকে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে দেখছেন।

২০২০ সালের বিদায়ে শোকরিয়া ও ২০২১ সালের জন্য দোয়া মাহফিলের কথা বলা হলেও শুরু থেকেই অনুষ্ঠানের আলোচনার কেন্দ্রে ছিল রাজনীতি। দেশে গণতন্ত্র ও মানুষের ভোটের অধিকার নেই বলে মন্তব্য করেন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেয়া বেশিরভাগ বক্তা।

অনেকেই দাবি করেছেন, অনুষ্ঠানের পুরো আয়োজনটা করা হয়েছে জামায়াতের অর্থায়নে। বিএনপির ঘাড়ে ভর করে স্বার্থ হাসিল করাই তাদের উদ্দেশ্য।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তিনি যোগ দেননি। বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত সৈয়দ মোহাম্মদ ইবরাহীম এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। তবে, বিএনপির মহাসচিব জামাতি অর্থায়নের কথা জানতে পেয়ে অনুষ্ঠানে যাননি বলেও শোনা গেছে।

জানা গেছে, ঝিমিয়ে পড়া সরকারবিরোধী আন্দোলন চাঙ্গা করতে চায় বিরোধীরা। এতে যুক্ত হয়েছে জামায়াত। তারা এরই মধ্যে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। ওই সভায় অংশ নেয়া জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরোয়ারের বক্তব্যে কিছুটা ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তারা সরকারবিরোধী অভিন্ন প্ল্যাটফর্ম দাঁড় করিয়ে সরকারকে চাপে ফেলতে চায়।

যদিও সরকার এতে মোটেও বিচলিত নয়। ক্ষমতাসীন দল সরকারবিরোধী আন্দোলন রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে সব সময়ই প্রস্তুত রয়েছে।

দোয়া মাহফিলের ওই অনুষ্ঠানে যারা ছিলেন

মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহম্মদ ইবরাহীমের সভাপতিত্বে দোয়া মাহফিলে গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বিএনপি নেতা সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবির, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় দলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদ, এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন, সাবেক সংসদ সদস্য নিলুফার চৌধুরী মনি, সাবেক সচিব সৈয়দ মারগুব মোর্শেদ, বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান অবসরপ্রাপ্ত এয়ার ভাইস মার্শাল ফখরুল আযম, মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর, মেজর জেনারেল (অব.) এহতেশাম, রিয়ার অ্যাডমিরাল অব. মোস্তাফিজুর রহমান, কল্যাণ পার্টির স্থায়ী কমিটির সদস্য ফোরকান ইবরাহীম, এবি পার্টির সদস্য সচিব মজিবুর রহমান মনজু, মেজর (অব.) সরোয়ার, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মাওলানা আব্দুল করিম, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমেদ আব্দুল কাদের, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শরীফ, কর্নেল (অব.) হান্নান, সাবেক রাষ্ট্রদূত আসাফউদ্দৌলা, কল্যাণ পার্টির স্থায়ী কমিটির সদস্য প্রফেসর ডা. ইকবাল মাহমুদ, বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাসান নাসির, জামায়াতে ইসলামীর নেতা মাওলানা আব্দুল হালিম, ইতিহাসবিদ নজরুল ইসলাম, মাওলানা মোশারফ হোসেন, বিএসএমএমইউএর সার্জারি বিভাগের সাবেক ডিন প্রফেসর সাইফুল ইসলাম, জাগপা মহাসচিব সাইফুল ইসলাম, ঢাবির অধ্যাপক নুরুল আমিন বেপারীসহ অর্ধশতাধিক অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

আরো পড়ুন

সৈয়দ ইবরাহিমের রহস্যঘেরা একটি সভা​

ভোটে বিএনপির ভরাডুবির কারণ জানালেন কাদের

ডাকাতি করে পৌরসভা দখল করেছে ক্ষমতাসীনরা​

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএইচ/এসটিআর/ওয়াইএ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত