ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০, ৭ কার্তিক ১৪২৭ আপডেট : ২ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৭:৩৬

প্রিন্ট

বিক্ষোভের ডামাডোলে কোণঠাসা করোনা

বিক্ষোভের ডামাডোলে কোণঠাসা করোনা
হৃদয় আলম

কারো দাবি, ‘নুরকে ফাঁসানো হয়েছে’। আবার কেউ বলছেন, ‘বিমানের টিকেট দেও’। এছাড়া আরো হরেক রকমের দাবিতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে সড়কে জটলা করে চলছে বিক্ষোভ সমাবেশ। কিন্তু এই এতো শত দাবির মাঝে যেন একরকমের ‘অবহেলিতই করোনাভাইরাস’। দেশে আজ পর্যন্ত করোনায় ৫ হাজার ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। ৬ মাস ১৪ দিনে আক্রান্ত সাড়ে তিনলাখ ছাড়িয়েছে। সংখ্যার হিসেবে কোনোভাবেই কোভিড-১৯ কে অবহেলা করা যাবে না বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

দেশে প্রথম দফায় করোনার সংক্রামণ কিছুটা কমে এলেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দ্বিতীয় দফায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে। বিষয়টিকে করোনার সেকেন্ড ওয়েভ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশেও পুনরায় সংক্রমণের আশঙ্কার কথা জানিয়েছে কোভিড-১৯–বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি। কিন্তু এই পরিবেশে এ ধরনের সভা-সমাবেশ থেকে করোনার ব্যাপক বিস্তার হতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

আজ সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, বেলা ১১টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে দোয়েল চত্বর হয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে সমাবেশ করেন ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদের’ নেতা-কর্মীরা। তারা দাবি করছেন, ধর্ষণের অভিযোগে ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরসহ কোটা সংস্কারের আন্দোলনের ছয়জনের বিরুদ্ধে ‘ষড়ন্ত্রমূলক’ মামলা দেয়া হয়েছে। এছাড়া অবৈধভাবে পুলিশি হামলা চালানো হয়েছে। কিন্তু এসময় তাদের কারো স্বাস্থ্যবিধির দিকে তেমন গুরুত্ব দিতে দেখা যায়নি।

ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতাদের মধ্যেও কর্মীদের সচেতন করার কোনো মনোভাব লক্ষ্য করা যায়নি। আজ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মুহাম্মদ রাশেদ খান, পরিষদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি বিন ইয়ামীন মোল্লা, ডাকসুর সাবেক সমাজ সেবা সম্পাদক আখতার হোসেন, ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হাসান, মশিউর রহমান, যুব অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক নাদিম হোসেনসহ একাধিক নেতার মুখে বিভিন্ন সময়ে মাস্ক দেখা যায়নি। এছাড়া তারা যখন কথা বলছিলেন কেউই মানেননি কোনো ধরনের সামাজিক দুরত্ব।

অপরদিকে রাজধানীর কারওয়ানবাজার এলাকায় সৌদি আরব যেতে ইচ্ছুক কয়েকশ প্রবাসী বাংলাদেশি প্লেনের টিকিটের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন। তাদেরও কোনো ধরনের স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা করতে দেখা যায়নি। দীর্ঘক্ষণ এসব বিক্ষোভকারীদের অনেককে মাস্ক ছাড়া দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। অনেককে আজ ভিড়ের মধ্যে দেয়াল বেয়েও ভবনের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করতে দেখা গেছে। এ সময় তাদের অনেকেরই মুখে মাস্ক ছিলো না।

সকালে প্রবাসীরা জড়ো হয়ে টিকিটের জন্য বিক্ষোভের সময় রাস্তার যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। যে সময় লোকজনকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা একই স্থানে দাঁড়িয়ে থাকে দেখা যায়।

সূত্রমতে, সোমবারও (২১ সেপ্টেম্বর) বিক্ষোভ করেন এসব টিকিট প্রত্যাশিরা। সেদিনও অনেক লোকের সমাগম হয়েছিলো এ এলাকায়। আজ কয়েকঘণ্টা সড়ক অবরোধের পর পুলিশ তাদের বুঝিয়ে ফেরত পাঠায়।

এ বিষয়ে তেজগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কামাল উদ্দিন বলেন, ‘প্রবাসীরা বিক্ষোভ করছে, তাদের সঙ্গে কথা বলে সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। সোনারগাঁও এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’

এদিকে এ ধরনের বিক্ষোভ থেকে খুব দ্রুত করোনা ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, কোনো অবস্থাতেই এ ধরনের ভিড় কাম্য না। করোনা মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায়। সব ধরনের ভিড় থেকে করোনার সংক্রামণ হতে পারে। জানাজা, খেলাধুলা বা এ ধরনের বিক্ষোভ-সমাবেশ, সভা- সব জায়গায় থেকেই করোনার সংক্রামণ হতে পারে। তাই যারা এসব সভা-সমাবেশের আয়োজন করেন বা যারা এতে অংশ নেন তাদের নিজ নিজ স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিতে হবে। বুঝতে হবে করোনা লোক চেনে না। তাই সচেতন থাকতে হবে নিজ দায়িত্বেই।

কোভিড-১৯–বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি বলছে, দ্বিতীয় দফার সংক্রমণ দ্রুত নির্ণয়য়ের লক্ষ্যে বর্ধিত হারে টেস্ট করা প্রয়োজন। করোনার নমুনা পরীক্ষার জন্য জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে পদক্ষেপ নিতে হবে। করোনার টিকা উৎপাদনে সারা বিশ্ব সক্রিয় হলেও কার্যকর টিকার প্রাপ্যতা সময়সাপেক্ষ। জীবিকার স্বার্থে লকডাউন জারি রাখা সম্ভব না হওয়ায় জনসাধারণকে আরও সচেতন এবং স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে আরও সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা দরকার।

বাংলাদেশ জার্নাল/এইচকে

আরো পড়ুন:

> দেশে করোনায় মৃত্যু ছাড়িয়েছে ৫ হাজার

> রাজধানীতে সৌদি প্রবাসীদের বিক্ষোভ, যান চলাচল বন্ধ

> ভিপি নূরের বিরুদ্ধে তরুণীর আরেক মামলা

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত