ঢাকা, শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর ২০২০, ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ আপডেট : ৭ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:২৪

প্রিন্ট

সুপ্রিম কোর্টে মাহবুবে আলমের জানাজা সম্পন্ন

সুপ্রিম কোর্টে মাহবুবে আলমের জানাজা সম্পন্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক

সদ্য প্রয়াত অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার দুপুর ১২টার দিকে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, অন্যান্য বিচারপতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ অনেকে অংশ নেন।

মাহবুবে আলমকে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য সকাল থেকে তার সহকর্মী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গরা হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে জমায়েত হতে থাকেন। বেইলি রোডের সরকারি বাসা থেকে সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটের দিকে তার মরদেহবাহী গাড়ি সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণের দিকে রওনা হয়। ১০টা ৪১ মিনিটের দিকে গাড়িটি সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে পৌঁছায়। এরপর জানাজা হয়। জানাজা শেষে দাফনের জন্য মরদেহ নেয়া হবে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে। সেখানে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে দীর্ঘ ৪৫ বছর সুপ্রিম কোর্টে আইন পেশায় নিয়োজিত থাকা মাহবুবে আলমকে।

সর্বশেষ টানা ১১ বছর দেশের প্রধান আইন কর্মকর্তা- অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করা মাহবুবে আলমের সম্মানে সোমবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ বসছে না বলে আগেই জানানো হয়েছে। শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ অনেকে।

এর আগে সোমবার সকাল সাড়ে ৮টায় মাহবুবে আলমের মরদেহ সিএমএইচ থেকে বেইলি রোডের অ্যাটর্নি জেনারেলের সরকারি বাসভবনে আনা হয়।

রোববার সন্ধ্যায় ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মাহবুবে আলম। তার বয়স হয়েছিলো ৭১ বছর।

গত ৪ সেপ্টেম্বর জ্বর নিয়ে ঢাকা সিএমএইচে ভর্তি হয়েছিলেন মাহবুবে আলম। সেখানে নমুনা পরীক্ষায় তার করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ সেপ্টেম্বর তার শারীরিক অবস্থার হঠাৎ অবনতি হলে গত ১৮ সেপ্টেম্বর আইসিইউতে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

মাহবুবে আলম ২০০৯ সালে অ্যাটর্নি জেনারেলের পদে নিয়োগ পান। পদাধিকার বলে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যানও ছিলেন তিনি।

অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে সর্বোচ্চ আদালতে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন মাহবুবে আলম। এছাড়া সংবিধানের পঞ্চম, সপ্তম, ত্রয়োদশ ও ষোড়শ সংশোধনী মামলা পরিচালনাও করেন তিনি।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের মামলায়ও যুক্ত ছিলেন মাহবুবে আলম। আলোচিত বিডিআর বিদ্রোহ হত্যা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবীর দায়িত্বে ছিলেন তিনি। তিনি এক মেয়াদে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এবং এক মেয়াদে সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন।

মাহবুবে আলমের জন্ম ১৯৪৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মৌছামান্দ্রা গ্রামে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬৮ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স এবং ১৯৬৯ সালে লোক প্রশাসনে ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে ১৯৭২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিগ্রি নেন।

১৯৭৫ সালে সুপ্রিম কোর্টের হাই কোর্ট বিভাগে এবং ১৯৮০ সালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আইন পেশা পরিচালনার অনুমতি পান মাহবুবে আলম। ১৯৯৮ সালে তিনি আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে ১৯৯৮ সালের ১৫ নভেম্বর থেকে ২০০১ সালের ৪ অক্টোবর পর্যন্ত অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করেন মাহবুবে আলম। ২০০৭ সালে দেশে জরুরি অবস্থা জারির আগে তিনি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ছিলেন।

সেনা নিয়ন্ত্রিত ওই সরকার আমলে শেখ হাসিনা গ্রেপ্তার হওয়ার পর শীর্ষ আইনজীবীদের অনেকে পিছুটান দিলেও আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর পক্ষে শক্ত হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন মাহবুবে আলম। দৃশ্যত সেই কারণেই তার উপর আস্থাবান ছিলেন শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যাওয়ার পর ২০০৯ সালের ১৩ জানুয়ারি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পান মাহবুবে আলম। তার পর থেকে টানা ১১ বছর তিনি এ দায়িত্বে ছিলেন।

আরো পড়ুন

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের বর্ণাঢ্য কর্মজীবন

সোমবার সুপ্রিম কোর্টে মাহবুবে আলমের জানাজা​

মিনিস্টার্স অ্যাপার্টমেন্টে অ্যাটর্নি জেনারেলের মরদেহ

সুপ্রিম কোর্টে অ্যাটর্নি জেনারেল, জানাজা ১২টায়

বাংলাদেশ জার্নাল/ওয়াইএ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত