ঢাকা, সোমবার, ২৪ জুন ২০১৯, ১০ আষাঢ় ১৪২৬ অাপডেট : ৪ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ৩১ মে ২০১৯, ১২:৩১

প্রিন্ট

অপরাধীর মরণ হয়, অপরাধের নয়

অপরাধীর মরণ হয়, অপরাধের নয়
মেহেদী হাসান লেনিন

অপরাধী যতো বেশি পাষণ্ড...! তার অপরাধের পাশবিকতা, হিংস্রতা ও নির্মমতার পরিমাণ তত বেশী হয়। তাই কখনো কখনো ইতিহাস সেই অপরাধীদের নাম স্মরণে রাখে আর নেপথ্যে রয়ে যায় অপরাধ নাম মূল বিষয়টি। আলোচিত হয় অপরাধী। অন্যদিকে অপরাধ আলোচনার অন্তরালে নিজের বিস্মৃতি ঘটায়।

এভাবেই কালের অববাহিকায় ও অপরাধের ধারাবাহিকতায় ইতিহাস একজনের পরে আরেকজন অপরাধীর নাম লিপিবদ্ধ করে আর তাদের অপরাধ জীবনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের নিমিত্তে তাদের তালিকা নিরূপণ করে আর খোঁজার চেষ্টা করে কে কার চাইতে বড় মাপের অপরাধী।

এভাবেই আমাদের আলোচনায় অপরাধীরা আলোচিত হয়। তাদের কুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। আর পরবর্তী প্রজন্মের অপরাধ জগতের নব্য আরেকজন তার পূর্বজনকে ছাড়িয়ে নিজের সাম্রাজ্য সম্প্রসারণের চেষ্টায় প্রতিনিয়ত তার অপরাধের মাত্রা তীব্র থেকে তীব্রতর করে যেন তার পরবর্তী প্রজন্মের অপরাধ জগতের অন্যকেউ তার সাথে নিজেকে তুলনা করে আর তাকে ছাড়িয়ে যাবার চেষ্টা করে এবং সে যাতে তাকে কখনোই ছাপিয়ে যেতে না পারে।

এভাবেই আমরা আমাদের আলোচনায় অপরাধীদের স্থান দিয়ে অপরাধ জগতকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে নিজেরা নিজেদের কাঁধে চড়িয়ে আজকের এই বীভৎস পর্যায়ে নিয়ে এসেছি এবং আগামী প্রজন্মকে ধ্বংসের চূড়ান্ত সীমায় উপনীত করেছি।

আমরা অপরাধী নির্মূলের চেষ্টায় নিত্যদিন কাজ করি কিন্তু নেপথ্যের অপরাধকে নির্মূলের কথা কেউ-ই ভাবিনা। যেমনটি ভাবেনি আমাদের পূর্ব-সুরীগণ।

আসুন আমরা অপরাধীর পাশাপাশি অপরাধকেও সমূলে উৎপাটন করে তা চিরতরে নিঃশেষ করার চেষ্টা করি। তবে হয়তো চির নিঃশেষ হবে না অপরাধ কিন্তু অপরাধের বিস্মৃতি অনেকাংশে হ্রাস পাবে। আর এই ধারাবাহিকতা প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম অনুসরণ করলে ও অব্যাহত রাখলে কোন একদিন নিশ্চয়ই অপরাধীর পাশাপাশি অপরাধের বিনাশ হবে এটা আমি নিশ্চিত। কারণ অপরাধীর চাইতে ভুক্তভোগীর সংখ্যা অজস্র গুণে অধিক।

এজন্য সবার আগে প্রয়োজন আমাদের আইনের ও শাসন ব্যবস্থার সংশোধন করা এবং তার চেয়েও বড় হলো আমরা আমাদের ধ্যান ধারণার পরিবর্তন করা।

যেমনটা একজন অপরাধী আরেকজন অপরাধীকে ছাপিয়ে নিজেকে সামনের সারিতে নেয়ার অন্তবিহীন প্রচেষ্টা চালায়...! পক্ষান্তরে একজন প্রতিবাদী ও অপরাধের বিনাশে কাজ করা অন্য আরেকজনকে ছাপিয়ে যাওয়া তো বহুদূর, তাকে সাহায্য করারও বিন্দুমাত্র চেষ্টা করি না একারণেই মুষ্টিমেয় অপরাধীদের হাতে গোটা বিশ্ব ও বিশ্বের বাকি সব মানুষজনেরা আজ জিম্মি।

অপরাধীরা অপরাধ দমন ব্যবস্থায় কর্মরতদের মধ্যেও নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে অপরাধ প্রবেশ করিয়েছে আর তারা পেরেছে এর মূল কারণ হলো তারা (সব অপরাধীরা) নিজেরা নিজেদের শত্রুতা ভুলে নিজেদের রক্ষার জন্য ঐক্যবদ্ধ হয় তাই। কারণ তারা নিজেদের চাইতেও নিজেদের জগত (অপরাধ জগত) কে রক্ষার চিন্তায় মগ্ন থাকে। তারা জানে, তারা ততক্ষণই ভালো থাকবে যতক্ষণ তাদের এই ভুবন ভালো থাকবে।

অথচ আমরা ভুক্তভোগীরা নিজেদের নিয়েই কেবল ভাবি। আমরা চিন্তা করি, দুনিয়ার সবকিছু রসাতলে যাক, আমি ভালো আছি এটাই বড় বিষয়। আসলে আমরা এটা বুঝতে চেষ্টা করি না যে, দুনিয়া রসাতলে গেলে আমি নিজে কি ভাসমান থাকবো? আর ভাসমান থাকলেও কী? অপরাধীরা আমাকে ভাসমান রাখবে কিংবা থাকতে দিবে?

মৃত্যু যেমন ধারাবাহিকভাবে একের পর অন্য আরেকজনকে আলিঙ্গন করে! তার (মৃত্যু) ধারা থেকে কেউ রক্ষা পায় না। ঠিক তেমনি অপরাধ ও অপরাধীদের দ্বারা আজকে যেমন একজন আক্রান্ত হচ্ছে, তারই ধারাবাহিকতায় কাল অন্য আরেকজন তারপর আরেকজন, এভাবে একদিন আমি নিজেও আক্রান্ত হতে বাধ্য...! এই কথাটাই আমরা ভুলে যাই।

এজন্য আমাদের শুধু নিজেকে ভালো রাখতে নয় নিজেদেরকে ভালো রাখার চিন্তা করতে হবে। আর যেদিন আমরা আত্মমগ্নটা নিরসন করে সবাইকে নিয়ে চিন্তা করতে পারবো, ঠিক সেদিনই এই পৃথিবী থেকে চিরতরে নিঃশেষ করা সম্ভব করা হবে অপরাধী ও অপরাধকে।

সেই ধারাবাহিকতার শুরু এখন থেকেই করা প্রয়োজন। আসুন আমরা স্বস্ব অবস্থান থেকে সকল প্রকার অন্যায় ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অবস্থান নেই এবং একে অন্যের পাশে দাঁড়াই আর আগামী প্রজন্মকে একটা সুন্দর ও বসবাস উপযোগী পৃথিবী উপহার দিয়ে যাবার চেষ্টা করি।

আসুন সবাই মিলে একসাথে অপরাধ ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হই। তবেই ভালো থাকবো আমরা, ভালো থাকবে মানুষ আর সর্বোপরি ভালো থাকবে দেশ।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএইচ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত
close
close