ঢাকা, রোববার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ আপডেট : ১৭ মিনিট আগে
শিরোনাম

রথযাত্রার পথে পাইপ বোমা ‘কাকতালীয়’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

  জার্নাল ডেস্ক

প্রকাশ : ২৬ জুলাই ২০২৬, ১৬:১১

রথযাত্রার পথে পাইপ বোমা ‘কাকতালীয়’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মতিঝিলে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে ‘পাইপ বোমা’টি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উল্টোরথ যাত্রাকে টার্গেট করে পেতে রাখা হয়নি বলে মনে করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তার কথায়, ওইদিন সেখানে বোমা উদ্ধারের বিষয়টি ‘কাকতালীয়’।

এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রথযাত্রা এবং উল্টোরথযাত্রা যেন সুচারুভাবে সম্পন্ন হয় সেজন্য আমাদের সকল সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করেছে। এই ডিভাইসটা (পাইপ বোমা) ঘটনাক্রমে কাকতালীয়ভাবে ওই দিন পাওয়া যায়। এটার সাথে রথযাত্রার কোনো সম্পর্ক নাই বলে মনে করি।

সচিবালয়ে একটি অনুষ্ঠান শেষে রোববার (২৬ জুলাই) সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে ‘উল্টো রথযাত্রাকে টার্গেট করে’সেখানে বোমাটি পাতা হয়েছিল বলে তারা ধারণা করছে পুলিশ। সেটি আগেই শনাক্ত করতে পারায় বড় বিপর্যয় এড়ানো গেছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (সিটিটিসি) মোহাম্মদ শামসুল হকের ভাষ্য, ছাতার সঙ্গে বোমাটি এমনভাবে লাগানো ছিল যে, ছাতাটি ফোটালেই বিস্ফোরণ হত। তাতে হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারত।

এ ঘটনার পেছনে কারা আছে এবং তাদের উদ্দেশ্য খুঁজে বের করতে পুলিশ এবং আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর অন্যান্য সংস্থা তদন্ত করছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।

ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার। তখন ঢাকা মহানগর পুলিশের মতিঝিল জোনের সহকারী কমিশনার হুসাইন মুহাম্মাদ ফারাবী অবশ্য বলেছিলেন, মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে একটি পরিত্যক্ত ছাতার মধ্যে ‘ককটেল পাওয়া গেছে’।

তিনি বলেছিলেন, ছাতার ভেতরে থাকা লাইট জ্বলতে দেখে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দেয়। পরে আমরা পুরো এলাকা ঘিরে ফেলি এবং বোম ডিসপোজাল ইউনিট এসে সেটা নিষ্ক্রি করে। কারা সেখানে ককটেল ফেলে গেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

আর ডিএমপির বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলের একজন কর্মকর্তা শুক্রবার রাতে জানিয়েছেন, মেট্রো স্টেশনের নিচে ওই ছাতার মধ্যে পাতা ছিল একটি শক্তিশালী 'পাইপ বোমা'। কেউ কৌতুহলবশত ছাতাটি খোলার জন্য বোতাম টিপলেই বড় ধরনের বিপদ হতে পারত।

এ ঘটনায় মতিঝিল থানার এসআই মো. মুক্তা বাদী হয়ে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে একটি মামলা করেছেন। মামলায় বলা হয়েছে, সরকারের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করতে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জনগণের জীবন বিপন্ন করার লক্ষ্যে বোমাটি সেখানে পাতা হয়েছিল।

ডিএমপির বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলের একজন কর্মকর্তা কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, কে বলেন, ওটা ছিল একটা পাইপ বোমা (আইইডি বা ইম্প্রোভাইসড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস)। এর ভেতরে দেড় কেজির মতো সালফার ছিল, আর ছিল প্রচুর তারকাঁটা ও ধারালো লোহার টুকরো। ব্যাটারি ও সার্কিট জোড়া দিয়ে ডিভাইসটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল যে কেউ ছাতা খোলার জন্য বোতামটি চাপলে এটার বিস্ফোরিত হত। তখন লোহা লক্করের টুকরোগুলো স্প্লিন্টার হয়ে আশপাশের লোকজনকে ক্ষতবিক্ষত করত।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম রথ শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে বোমাটি রাখা হয়েছিল বলে সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, এ কারণে বোমাটি পাতা হয়ে থাকতে পারে। তবে তদন্ত চলছে।

এদিকে শুক্রবার রাতে ওই বোমাটি নিষ্ক্রিয়করণের সময় একজন পথচারী আহত হয়েছেন।

বাংলাদেশ জার্নাল/সিএম

  • সর্বশেষ
  • পঠিত