ঢাকা, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে
শিরোনাম

শাহজালালের কার্গো অপারেশন ২৪ ঘণ্টা চালু রাখতে বললেন বিমানমন্ত্রী

  জার্নাল ডেস্ক

প্রকাশ : ০৭ জুন ২০২৬, ২২:০১  
আপডেট :
 ০৭ জুন ২০২৬, ২২:১২

শাহজালালের কার্গো অপারেশন ২৪ ঘণ্টা চালু রাখতে বললেন বিমানমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কার্গো জট কমাতে ২৪ ঘণ্টা কার্গো অপারেশন চালু রাখার কথা বলেছেন বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা।

রোববার (৭ জুন) বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) কার্যালয়ে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক আলোচনায় মন্ত্রী এ কথা বলেন।

শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো অপারেশন এলাকায় গত শুক্রবার রাতে সাড়ে সাত মাসের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় আগুন লাগার পর এই বৈঠকে বসেন মন্ত্রী। ব্যবসায়ীরা কার্গো অপারেশনের নানা অব্যবস্থাপনার কথা মন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন।

বেসামরিক বিমান প্রতিমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এমডি ও সিইও কাইজার সোহেল আহমেদ, বাংলাদেশে ডিএইচএল এক্সপ্রেসের এমডি মিয়ারুল হক, ফেডারেশন অব বাংলাদেশ কাস্টমস ক্লিয়ারিং এন্ড ফরওয়ার্ডিং (সিঅ্যান্ডএফ) এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মিজানুর রহমান, পোশাক খাতের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইর প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা প্রায় দুই ঘণ্টার বৈঠকে অংশ নেন।

বৈঠকের পর সেখানে উপস্থিত এক কর্মকর্তা বলেন, “বৈঠকে বিমানবন্দরের কার্গোতে প্রায় ১৬০০ টন পণ্যজটের কথা উঠেছে। দুই সপ্তাহের মধ্যে এই পণ্যজট কমাতে মন্ত্রী ছুটির দিনসহ ২৪ ঘণ্টা কার্গো অপারেশন চালু রাখার কথা বলেছেন। সেটা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।”

বৈঠকে অংশ নেওয়া সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন, “মন্ত্রী খুব ভালো মন নিয়েই ২৪ ঘণ্টা কার্গো অপারেশন চালু রাখার কথা বলেছেন। কিন্তু এটা আসলে কতখানি বাস্তবসম্মত সেটাও দেখার বিষয়। আমাদের এখানে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং অপারেটর বিমানের কিছু লোক থাকলেও হ্যান্ড ইকুইপমেন্ট নেই বললেই চলে। ম্যানুয়ালি প্রতিদিন পাঁচ থেকে ছয়শ টন কার্গো হ্যান্ডেল করা তাদের পক্ষে অসম্ভব।”

ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, “আমাদের এখানে প্রতিদিন ৪৫ থেকে ৫০টি ফ্লাইট নামে। এর মধ্যে মোটে ৫ থেকে ৭টি থাকে চার্টার্ড কার্গো ফ্লাইট। বাকিগুলো সব যাত্রীবাহী ফ্লাইট, তবে এগুলোতে কিছু কার্গোও বহন করা হয়। বেশিরভাগ কার্গো আসে চার্টার্ড ফ্লাইটে।

“আমাদের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলার বিমানের সক্ষমতা আছে এই যাত্রীবাহী ফ্লাইটের কার্গো হ্যান্ডেল করার। এর বাইরে চার্টার্ড ফ্লাইটের কার্গো হ্যান্ডেল করা তাদের সক্ষমতার বাইরে। আমাদের হিসেবে প্রতি চারদিনে এখানে ২০০০ টনের মতো কার্গো জমে। একটা মাল ডেলিভারি পেতে গড়ে সময় লাগে ১১ দিন।”

গত শুক্রবার রাতে কার্গো ভিলেজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নিয়েও কথা হয় সভায়। তবে কীভাবে আগুন লাগল সে বিষয়ে উপসংহার টানার মত কিছু আলোচনায় আসেনি বলে অংশগ্রহণকারীরা জানিয়েছেন।

শুক্রবার রাত ১১টার ২৪ মিনিটে শাহজালালের কার্গো ভিলেজের ৯ নম্বর গেটে আগুনের খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। শুরুতে শাহজালাল বিমানবন্দরের ফায়ার ইউনিট সেখানে আগুন নেভাতে কাজ শুরু করে।

এরপর ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্সের ছয়টি ইউনিট এবং বিমান বাহিনীর ঘাঁটি একে খন্দকার থেকে গাড়ি গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজের যে অংশে কুরিয়ার সার্ভিসগুলো কাজ করে, সেখানে একটি কন্টেইনারে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে তথ্য দেন সংশ্লিষ্টরা। এর আগে গত অক্টোবরেও কুরিয়ার সার্ভিসের অংশেই (খাঁচায়) আগুন লেগেছিল।

বিমানবন্দরের কর্মকর্তারা বলেছেন, যেখানে আগুন লেগেছে তার পাশে একটি লাইটের খুঁটি রয়েছে। খুঁটির নিচে কিছু তার পরে থাকতে দেখা গেছে। তবে সেখানে শর্ট সার্কিট হয়েছে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো আলামত নেই।

অপরদিকে আগুন লাগার স্থানের আশপাশে সিগারেটের উচ্ছিষ্টাংশ পাওয়া গেছে। ধূমপান নিষিদ্ধ জায়গায় কারা ধূমপান করেছে সেটিও খতিয়ে দেখার কথা বলছেন বিমানবন্দর কর্মকর্তারা।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসআইপি

  • সর্বশেষ
  • পঠিত